বিলম্বে হলেও অনেকটা ধূমকেতুর মতো রাজধানীর ক্যাসিনো সাম্রাজ্যে আঘাত হেনেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ’ক্যাসিনো সম্রাট’খ্যাত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা এখন খাদের কিনারে। কেউ ধরা পড়েছে, কেউ আটকের অপেক্ষায়। যার ফলে অবসান হচ্ছে বাংলাদেশ যুবলীগ নেতাদের দির্ঘদিনের ক্যাসিনো বাণিজ্য। রাজধানিতে প্রায় সকল বড় বড় বাড়ির ছাদগুলোতে এই ক্যাসিনোর রমরমা ব্যবসা হয়ে আসছিলো।
ক্যাসিনো ক্লাবের সন্ধানে বুধবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, শাহজাহানপুরের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তবিনোদন ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব ও বনানীর আহমেদ টাওয়ারের একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ মাদক ও অর্থ। তিনটি ক্লাব থেকে অন্তত ১৪২ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণীও রয়েছেন। তবে অন্যান্য ক্যাসিনোর চেয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের ক্যাসিনোটা একটু ব্যতিক্রম। যেখান থেকে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। এই ক্যাসিনোর বিষয়ে র‍্যাবের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেমন যেন গা ছমছম পরিবেশ। সাজসজ্জা দেখলে মনে হয় কোনো হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি এই ক্যাসিনোটা নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। গেইটে লেখা ’রে‌স্ট্রি‌কটেড এ‌রিয়া’ (সংরক্ষিত এলাকা)। ভেতরে উঁকি মারতেই দেখা গেল, এক কোণায় এক টুকরা সাপের মাথা ও কষ্টিপাথর।

এক জুয়াড়ির বরাত দিয়ে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আয়োজন করে সাপের মাথায় কষ্টিপাথর ছুঁয়েই জুয়া খেলা শুরু হতো। জুয়া‌ড়িদের আকৃষ্ট করতে ও হার‌জিত নির্ধারণে না‌কি এসব কাজে দেয় বলে ক্যাসিনো গুজব রয়েছে।
একটু সামনে এগিয়ে যেতেই একটি ভিআইপি কক্ষ। কক্ষের ভেতর বড় চেয়ারটিতে বাঘের মাথার ছবির একটি তোয়ালে দেয়া। একটু কাছে যেতেই দেখা গেল তার ওপর হরিণের চামড়ার টুকরো বি‌ছানো। র‌্যাবের অভিযানের খবর পেয়ে অনেকেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু র‌্যাব সদস্যরা ক্লাবের আশপাশে তন্নতন্ন করে খুঁজে তাদের আটক করেন। ক্যাসিনোটি সিলগালাসহ এখান থেকে আটক ৪০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা হয়েছে মাদক, নগদ অর্থ, কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ক্যাসিনো সামগ্রী।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদল আওয়ামিলীগের অন্যতম বড় অঙ্গসংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ যুবলীগ। এই সংগঠনের এত দিন বেশ ভালৈ সুনাম অক্ষুন্ন ছিলো, আওয়ামিলীগের দলগুলোর মধ্য অন্যতম সুসংগঠিত দল বলে পরিচিত ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে এ সকল সুনাম যেন মাটিতে মিশে গেলো। ফাঁস হয়ে গেলো যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনো আর মাদকের রমরমা ব্যবসা।