বাংলাদেশে একের পর এক ভিডিও, অডিও ফাসেঁর ঘটনা ঘটছে। এতে দেখা যাচ্ছে বেশির ভাগই সমাজের উচ্চপর্যায়ের মানুষেরা জড়িত। এ ছাড়া এই সকল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাওয়া যায় গুরুতর অনেক অভিযোগ। গেল কিছুদিন আগে বশেমুরবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির একটি ওডিও কথোপকথন ফাসঁ হয় যে খানে শোনা যায় একজন নারী শিক্ষার্থিকে ভৎসনা শুরে কথা শোনাচ্ছে ভিসি।যার ফলে তার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে আন্দোলন। আবারো সেই গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের অডিও ফাঁস হয়েছে। এই অডিও কথোপকথনে শোনা যায় আন্দোলনর‍ত শিক্ষার্থীতেদের সাথে বেশ রুঢ় ভাষায় ভৎসনা করে কথা বলেন, যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটুর।ইতিমধ্যে এই অডিওটি শোস্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে।


আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে শাসানোর সময় তাদের ’জানোয়ার’ বলে গালি দিয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন। শিক্ষার্থীদের শাসানোর একটি অডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই অডিওতে শোনা যায়, কোনো এক শিক্ষার্থীর উদ্দেশে উপাচার্য বলছেন, ’এই জানোয়ার, তোর বাপ বিশ্ববিদ্যালয় চালায়? জানোয়ারের দল। লাথি দিয়া বের করে দিতে ইচ্ছে করে। তোর বাপেরে চালাইতে ক। দেখি কী চালায় তোর আব্বা। তোরা জানোয়ারের দল। কোনডারে ছাড়ব? একটার চেয়ে আরেকটা বেশি। তোরা চালা তাইলে বিশ্ববিদ্যালয়।’

শিক্ষার্থীদের গালি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ’এসব সরকার বিরোধীদের ষড়যন্ত্র, যা অভিযোগ উঠেছে, তার ভিত্তি নাই।’

এদিকে আন্দোলনের মুখে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ক্যাম্পাস। হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণাটি গতকাল শনিবার সকাল নয়টায় জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে ১ ঘণ্টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দিলে ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্ত না মেনে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্যের পালিত বহিরাগত লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদেরকে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।

গত কয়েকদিনের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চেয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ’তাদের চোখের পানি সহ্য হচ্ছে না। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’


উল্লেখ্য, নানা কারনে সমালোচনায় জর্জরিত ভিসি খন্দকর নাসির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। গত ছয় মাসে প্রায় ৭ জন শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেছেন তিনি। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের অপরাধ বলতে একটাই ছিলো তারা বিশ্ববিদ্যলায়ের নানা অনিয়ম অসংগতি ফেসবুকে তুলে ধরতো। গতকাল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে মারধর করে আহত করে ভিসির লোকজন, এ সময় শিক্ষার্থীদের মারধর আর কান্না দেখে সহ্য করতে না পেরে সহকারি প্রক্টর পদত্যাগ করেন।