ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে তাকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে সাধারণ বন্দী হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার হঠাৎ সম্রাট গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে শোনা যায়।


এ দিকে সম্রাটের চিকিৎসায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

মেডিক্যাল বোর্ডে আরও রয়েছেন ডা. আশরাফুল হক সিয়াম এবং ডা. আর এম খান।


গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে সম্রাট হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সিসিইউ-১ বিভাগের বেড নম্বর-৩ এ ভর্তি আছেন। সোমবার রাতে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নেয়া হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে সম্রাটকে সিসিইউতে নেয়া হয়।
ডা. আফজালুর রহমান বলেন, তার চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের পর্যবেক্ষণে সম্রাটের চিকিৎসা চলছে। বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বর্তমান অবস্থা বোঝা যাবে।

হাসপাতালে সম্রাটের আইনজীবীরা গেলেও চিকিৎসার স্বার্থে তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে আরও একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি সম্রাটকে এর আগে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাকরাইলে সম্রাটের অফিসে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাদক, ক্যাঙ্গারুর চামড়া, পিস্তল ও টর্চার মেশিন উদ্ধার হয়েছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম তাকে এই সাজা দেন।


উল্লেখ্য, দীর্ঘ অভিযানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি আরমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রোববার ভোরে গ্রেফতারের কথা র‌্যাব ঘোষণা দিলেও স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার রাতেই তারা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। তার সাথে তার সহযোগী ও তার ক্যাসিনো ব্যবসার গুরু আরমানও গ্রেফতার হয়।