শিক্ষকরা আমাদের সমাজে সবথেকে সম্মান প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। এবং তাদের স্থান আমাদের কাছে অন্য সবার থেকে উচ্চ স্থানে। কারণ একেকটি শিক্ষক মানেই এক একটি জাতি তৈরীর কারিগর। ভালো শিক্ষকরা পারেন একটি জাতি বা রাষ্ট্রকে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপহার দিতে। কিন্তু শিক্ষকরাই অনেক সময় জড়িয়ে যান সমালোচনার মধ্যে। এমন এমন সব নেতিবাচক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন যা শুনলে মানুষের চোখ উঠে যায় কপালে। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এমন একটি কাণ্ড ঘটিয়েছেন যার ফলে তাকে নিয়ে সমালোচনায় মেতেছে সারাদেশ। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো প্রকার দুঃখ প্রকাশ করেননি। কোনরূপ অনুতাপ দেখা যায়নি তার মধ্যে। বরং তার কথার মধ্যে ছিল দম্ভোক্তি।
ভাষার মাসে হিন্দি গানের তালে তালে ছাত্রীদের সঙ্গে ড্যান্স করাকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের সেই অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন।


হিন্দি গানে ছাত্রীদের সঙ্গে নাচ নিয়ে কে কী মন্তব্য করল তাতেও তার কিছু যায় আসে না বলে মনে করেন তিনি।

গত শনিবার কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে হিন্দি গানের তালে তালে পাঞ্জাবি-টুপি পরে ছাত্রীদের সঙ্গে নাচেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন।

ওই নাচের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

স্থানীয়রা বলছেন, ভাষার মাসে হিন্দি গানের সঙ্গে মঞ্চে যেভাবে নৃত্যু করা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর। একজন শিক্ষক বা অধ্যক্ষের কাছে থেকে এ রকম অশ্লীল নৃত্য কোনোভাবেই তারা আশা করেন না।

ইসলামিক পোশাকে ভাষার মাসে একজন প্রিন্সিপালের এ রকম নাচ জেলাজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন তারা।

এ ধরনের কাণ্ডে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই।

তবে কারও সমালোচনাকেই কর্ণপাত করছেন অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনাকে অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন বলেন, ’আসলে গানের বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে ওরা (ছাত্রী) নাচছিল। সেই হিসেবে ওরা আমাকে (মঞ্চে) উঠাইছে। এখানে বাংলা, হিন্দি বা ইংলিশ গান চালানো যাবে না এ রকম কোনো নির্দেশনা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে সোসাইটির লোকজন যে যাই ভাবুক না কেন, আমার তো কোনো ইলমোটিভ (অসৎ উদ্দেশ্য) ছিল না। ’এমনি ওদের সঙ্গে ফান করেছি জাস্ট। ফান হয়ে গেছে। এটার জন্য মানুষ যে মন্তব্যই করুক না কেন আমার কিছু যায় আসে না’ যোগ করেন আলাউদ্দিন।


প্রসঙ্গত, তবে বাংলাদেশে ধরনের ঘটনা প্রথম নয়। এর আগে সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে এমন সব অনৈতিক কার্যক্রম। আর যেগুলো ঘটিয়েছেন শিক্ষকরাই। চুয়াডাঙ্গার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগে সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছিল খুলনার ডুমুরিয়ার একটি স্কুলের ভিডিও। যেখানে দেখা যায় ছাত্রীদের সাথে হিন্দি গানের তালে উদ্দাম নাচে মত্ত হয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। তারা ভুলে গেছেন এসব শিক্ষার্থীরা তাদের সন্তান সমতুল্য। যার ফলে ঘটাচ্ছেন ধরনের অসামাজিক অনৈতিক কার্যকলাপ।