কুড়িগ্রামের বহুল আলোচিত ডিসি সুলতানা পারভিন। এই নামটি এতদিন একটি জেলা ভিত্তিক পরিচয় থাকলেও এখন এই নামটি এখন সারা দেশে ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত। সদ্য ডিসি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে। আর এই বহিষ্কারের পেছনে রয়েছে সাংবাদিকের সাথে ঘটনো একটি নেক্কারজনক ঘটনা। মূলত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার নামে যত সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সুলতানা পারভিন প্রত্যাহারের পর থেকেই তার নামে একের পর এক তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে। এবার তার পরিবারের নামেও বের হলো দখলদারিত্বের তথ্য।
আলোচিত জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের পরিবার কর্তৃক দখলকৃত প্রায় ৪ একর জমি দীর্ঘ ১৩ বছর পর মূল মালিককে ফেরৎ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সহকারী জেলা জজ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে নাজির মো. তমিজ উদ্দিন ওই জমিতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পৈত্রিক সূত্রে জমির মূল মালিক আমিরুল গংকে জমি বুঝিয়ে দেন।

আমিরুল গংদের বাড়ি সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ি এলাকায়। একই গ্রামে কুড়িগ্রামের প্রত্যাহার হওয়া ডিসি সুলতানা পারভীনের বাবার বাড়ি।


জানা গেছে, সুলতানার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী ও সহোদর আব্দুল জব্বার প্রভাব খাটিয়ে দখল করে রেখেছে স্থানীয়দের। বাদ পরেনি ভুক্তভোগিরাও। মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান জেলা প্রশাসক তাই ভয়ে মুখও খুলেনা কেউ। ১৩ বছর পূর্বে এমন প্রভাব আর মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে জাল দলিল করে জোর পূর্বক দখল করে নেয় আমিরুলদের ৩ একর ৬৮ শতক জমি। নিরুপায় আমিরুলরা দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে গত ১২ মার্চ আদালতের রায় পান নিজেদের অনুকুলেই।

আমিরুল জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পৈতৃক সম্পদ জাল দলিলে অবৈধভাবে ভোগ-দখল করে আসছিল সুলতানার পরিবারের লোকজন।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের দাপট দেখিয়ে তারা আমাদের নামে অনেক মিথ্যা মামলাও করেছে। পরে আমরা নিরুপায় হয়ে ২০০৬ সালে আদালতে বাটোয়ারা মামলা করি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আজ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে জমি ফিরে পেয়েছি। এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।

পঞ্চগড় জেলা দায়রা জজ আদালতের নাজির তমিজ উদ্দিন জানান, জেলা সহকারী জজ আদালতের রায়ে দলিলাদি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা আজ ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির মূল মালিকগণকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গেল কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি অনলাইন পত্রীকা বাংলা ট্রিবিউনের একজন সাংবাদিককে তুলে নেবার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত হন। আর এর পর থেকেই তার নামে নানা ধরনের তথ্য বের হতে থাকে। আর এই ঘটনার জের ধরেই তাকে ডিসি পদ অপসারন করা হয়। তার নামে অভিযোগ রয়েছে ২০১৯ সালে ঈদের দিনও বদলে দিয়েছিলেন তিনি।আর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় সে সময়।