শুদ্ধি অভিযানের বলি বাংলাদেশের অনেকেই। যার মধ্যে সম্রাট নামটি বেশ শির্ষে রয়েছে। আর এই সম্রাট কাহন চলছে এখনো। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সব অবাক করা তথ্য বের হচ্ছে। যা মানুষকে একেবারেই হতভম্ব করে দিচ্ছে। আর সেই তথ্যে প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এবার প্রকাশ পেল তার মানি লন্ডারিং এর তথ্য।ক্যা’/সি’/নো’/কা’/ণ্ডে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার সঙ্গী মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকাপা’/চা’রে/র’/ বিস্তর অভিযোগ সামনে আসছে। টাকাপাচার করতে এই দুজন গত ৮ বছরে ৫৮ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন। এই সময়ে তারা ১৯৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন।
সম্রাটের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা মামলায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ১৯৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন সম্রাট। রোববার রাতে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ১৪। সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি মিডিয়া) জিসানুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক মো. রাশেদুর রহমান উল্লেখ করেন, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত কাকরাইলে ৭৪/এ ৪র্থ তলায় মেসার্স হিস মুভিজে অবস্থান করে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইল এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন।

আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা এনামুল হক আরমানের সহযোগিতায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাচার করেছেন তিনি।

সম্রাটের বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে সিআইডি জানতে পারে, সম্রাট ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ বার সিঙ্গাপুর, ৩ বার মালয়েশিয়া, দুবার দুবাই এবং একবার হংকংয়ে ভ্রমণ করেছেন।
আর তার সঙ্গী এনামুল হক আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৩ বার ভ্রমণ করেছেন। দুজন মিলে ৫৮ বার শুধু সিঙ্গাপুরেই ভ্রমণ করেছেন।

সম্রাটের বিরুদ্ধে এর আগে রমনা থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ উপার্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলাটিও তদন্তাধীন রয়েছে। গত বছরের ১২ নভেম্বর দুদকের করা মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় গত ১৮ আগস্ট আদালতে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ সম্রাটের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
ক্যা’/সি’/নো’/বি’/রো’/ধী’ অভিযান শুরুর পর সম্রাটের নাম আসার পর থেকেই তাকে নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তখন সম্রাট আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় সম্রাটকে। তার সঙ্গে সহযোগী আরমানকেও আটক করা হয়। পরে ঢাকায় এনে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদও করে র্যানব।

ওই দিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে র্যা বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র্যাকবের একটি দল সম্রাটকে নিয়ে কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে তালা ভেঙে তারই কার্যালয়ে ঢুকে অভিযান শুরু করে।

সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয় থেকে একটি পি’/স্ত’/ল, বিপুল পরিমাণ বি’/দে’/শি ম’/দ ও দুটি ক্যাঙ্গা’/রু’/র চাম’/ড়া’/ জব্দ করে তারা। পরে ছয় মাসের জেল দিয়ে র্যাুবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুরুতে শুদ্ধি অভিযান বেশ সক্রিয় ছিল সারা দেশে। ছিল বেশ বেগবানও। তবে বর্তমানে তা বেশ সিথীল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে থেকেই শুরু হয়েছে এই অভিযান। যেখানে ছাত্রলীগ থেকে যুবলীগ সবাইকে একটি বড় রকমের ধাক্কা দেয়া হয়। আর করোনার কারনে এই অভিযান ব্যহত হলেও আবারও শুরু হবে বলে সরকার থেকে জানানো হয়েছে।