বাংলাদেশের সিনেমা কিংবা শোবিজ জগতে হয়তো চাইলেই সুযোগ পেয়ে যেতেন তিনি। শারীরিক সৌন্দর্য্য আর গঠনের দিক থেকে দেশের নায়কদের তুলনায় কোন অংশে কম যাননা তিনি। বলছিলাম বর্তমানে দেশের টক অবদ্যা টাউনে পরিনীত হওয়া সিলেটের এস আই আকবরের কথা। সুদর্শন চেহারা, দেখতে সিনেমার নায়কের মতো। পুলিশের চাকরি করলেও বাস্তবে সত্যিই নায়ক।
তিনি সিলেট নগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
চলচ্চিত্র জগতে পা না রাখলেও সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত নাটকে নায়কের অভিনয় করতেন তিনি। ইউটিউব চ্যানেলে সিলেটি ভাষায় নাটক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয়ও করেছেন। ’গেইমওভার’ ও ’গরীবের দেব’ নামে নাটক করে পরিচিতিও পেয়েছেন বেশ।

কিন্তু পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন (৩০) নামে যুবককে পি’/টি’/য়ে হ’/ত্যা’/র ঘটনায় রাতারাতি নায়ক থেকে ভিলেন (খলনায়ক) বনে গেছেন এসআই আকবর। এতদিনের অর্জিত সুনাম একটি ঘটনার কারণে নিমিষেই ধুলায় মিশে গেলো।

সিলেট তথা দেশের মানুষের কাছে এখন তিনি ’রায়হানের হ’/ত্যা’/কা’/রী’/’ হিসেবে পরিচিত। ’হ’/ত্যা’/কা’/ণ্ডে’/র ঘটনায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করে তার ’শা’/স্তি’/র দাবিতে সরব সিলেটের মানুষ।

গত রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে রায়হান উদ্দিন (৩০) নি’/হ’/ত হন। পুলিশের দাবি, ছিন’/তা’/ই’/য়ে’/র দায়ে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় গ’/ণ’/পি’/টু’/নি’/তে তিনি নি’/হ’/ত হন। অপরদিকে, রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নি’/র্যা’/ত’/নে’ নি’/হ’/ত হন রায়হান।

এজাহারেও এমন অভিযোগ তুলে ধরে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহত রায়হান উদ্দিনের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলার এজাহারে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নি’/র্যা’/ত’/ন করে হ’/ত্যা’/র’/ অভিযোগ আনলেও কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়া, নিহতের সৎ বাবা হাবিবুল্লাহ চৌধুরীও এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া ফাঁড়িতে উপস্থিত ছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে শনাক্ত করেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রায়হানের বাড়িতে যান সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন হাবিবুল্লাহ।

তিনি বলেন, ’সকালে ফাঁড়িতে যাওয়ার পর এক পুলিশ সদস্য আমার কাছে ১০ হাজার টাকা চান। এসময় পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এসআই আকবর। তখন তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তিনি আমাকে বলেন, রায়হান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’

এদিকে, পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে পিটিয়ে হ’/ত্যা’/র’/ অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরীয়ার আল মামুনকে প্রধান করে এসএমপির কোতোয়ালি থানার সহকারী কমিশনার নির্মল চক্রবর্তী ও বিমানবন্দর থানার সহকারী কমিশনার প্রবাস কুমার সিংহকে কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়। তাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসআই আকবরসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ’পুলিশ ফাঁড়িতে নি’/র্যা’/ত’/নে যু’বকের মৃ’/ত্যু’/র অভিযোগে তদন্ত কমিটির সুপারিশে এসআই আকবরসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। ’

রায়হান উদ্দিন সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার তিন মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন তিনি।


পুলিশ জনগনের বন্ধু। এই কথাটি দীর্ঘদিন পরে সত্যি হয়েছিল দেশে করোনা আসার কারনে। কারন করোনার সময়ে পুলিশের মানবিক দিকটা ফুটে উঠেছিল সবার সামনে। কিন্তু আবারো বিতর্কে জড়িয়ে গেছে সেই পুলিশ বাহিনীই। নানা ধরনের নতুন নতুন সব নেতিবাচক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারনে পুলিশ সাধারনদের কাছে হতে শুরু করেছে আবারো অ-আস্থার পাত্র। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিলেটের রায়হানের ঘটনা অনন্তত তাই জানান দিচ্ছে।