দেখতে একেবারেই নায়কের মত চেহারা। বলতে গেলে বাংলাদেশের সিনেমা জগতে তাকে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগবে না বেশি। তবে অভিনয় জগতে পা না বাড়ালেও কাজ করেছেন অভিনয় নিয়ে। সিলেটের একটি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেলে অভিনয় করতেন তিনি। খন্ড খন্ড নাটকের মাধ্যেমে তিনি সমাজের নানা ধরনের অঙ্গতী আর অনিয়ম তুলে ধরতেন। ডাক দিতেন সমাজ পরিবর্তনের। বলছিলাম বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা সিলেটের সেই এসআই আকবরের কথা। যিনি নায়কের মত চেহারা নিয়ে এখন বনে গেছেন দেশের ভিলেন হিসেবে।
অভিনেতা আকবর হোসেন ভূইয়ার অভিনয় দেখে অনেকেই তাকে জানতেন একজন সৎ পুলিশ সদস্য হিসেবে। কিন্তু গত শনিবার রাতে মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য ফাঁড়িতে নি’/র্যা’/ত’/ন করে রায়হান উদ্দিন নামে এক যুবককে খু’/নে’/র ঘটনার পর বের হয়ে আসতে শুরু করে আকবরের ভয়ঙ্কর রূপ।

রায়হানের মৃ’/ত্যু’/র পর বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেনসহ চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে আরও তিনজনকে। রায়হানের মৃ’/ত্যু’/র জন্য আকবরসহ ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের দায়িত্বহীনতা দায়ী ছিল বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার। সিলেট নগরীর বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বন্দরবাজার এলাকা ঘিরে ছিল এসআই আকবরের রাজত্ব। ওই এলাকার অপরাধীদের নিয়ে ছিল তার সিন্ডিকেট।

এমন তথ্য মিলেছে বিভিন্ন সূত্র ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। সিলেট নগরীর নেহারিপাড়ার মৃ’/ত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিনের মৃ’/ত্যু’/র পর তাকে ছি’/ন’/তা’/ই’/কা’/রী সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন এসআই আকবর। নগরীর কাস্টঘরে ছি’/ন’/তা’/ই করতে গিয়ে গ’/ণ’/পি’/টু’/নি’/তে তার মৃ’/ত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গ’/ণ’/পি’/টু’/নি’/র কোনো প্রমাণ মেলেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফাঁড়িতে আটকে রেখে রায়হানকে নি’/র্যা’/ত’/নে’/র সময় সে চিৎকার করছিল। ’নি/র্যা’/ত’/ন না করে মে’/রে না ফেলতে পুলিশ সদস্যদের অনুরোধ করছিল। বন্দরবাজার ফাঁড়ির লাগোয়া কুদরত উল্লাহ বোর্র্ডিং। ওই বোর্ডিংয়ের ১০২ নম্বর রুমে থাকেন ব্যবসায়ী হাসান আহমদ। তিনি জানান, রাতে তিনি তার এক আত্মীয়কে ঢাকার বাসে তুলে দিতে কদমতলী টার্মিনালে যান। ফিরে আসার পর তিনি শুনতে পান ফাঁড়ির ভিতরে কেউ চিৎকার করছে।

আকুতি জানিয়ে বলছে, ’আমি চোর-ডাকাত না, আমাকে আর মে’/রো না। ’ পরে তিনি সকালে জানতে পারেন আগের রাতে ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনকে নি’/র্যা’/ত’/ন করে মে’/রে ফেলার ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কাজে এসআই আকবরের কাছে গেলে তিনি টাকা ছাড়া কথা বলতেন না। কাজিরবাজার মাদ্রাসার শিক্ষক ফুয়াদ আদনান জানান, তার এক বন্ধুর একটি কাজের জন্য তিনি একবার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে গিয়েছিলেন। এসআই আকবর তাদের নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বসেন। কাজটি করে দেওয়ার জন্য তিনি ১ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এসআই আকবর তাকে ফোন করে হুমকি দেন। হুমকি পেয়ে তিনি স্ট্যাটাসটি মুছতে বাধ্য হন। সিলেট নগরীর মহাজনপট্টির ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের সময় বাংলাদেশ পুলিশ যখন মানবিক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে তখনো চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া ছিলেন এসআই আকবর। লকডাউনের সময় মহাজনপট্টিতে দোকান খুলতে হলে অনুমতি লাগত এসআই আকবরের। দোকানের এক শাটার খুললে ১ হাজার টাকা ও দুই শাটার খুললে ২ হাজার টাকা করে দিতে হতো তাকে। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকা ঘিরে ছিল এসআই আকবরের অপরাধ রাজ্য। হকারদের কাছ থেকে ’চাঁ’/দা আদায়, অ’/সা’/মা’/জি’/ক কাজের জন্য হোটেল থেকে মা’/সো’/হা’/রা, জু’/য়া’/ড়ি, ছি’/ন’/’তা’/ই’/কা’/রী ও ’মা’/দ’/ক ব্য’/ব’/সা’/য়ী’/দে’/র’/ কাছ থেকে প্রতি সপ্তাহে অর্থ আদায়। রাতে রাস্তা থেকে নিরীহ লোকজনদের ফাঁ’/ড়ি’/তে ধরে নিয়ে মা’/দ’/ক ও অবা’/ঞ্ছি’/ত নারীদের দিয়ে আ’/ট’/ক দেখানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় ছিল এসআই আকবরের নি’/ত্য দিনের ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার নেতা জানান, বন্দরবাজার ফাঁড়ির আওতাভুক্ত এলাকায় ৮০০-৯০০ ভাসমান হকার রাস্তা ও ফুটপাথে বসেন। প্রত্যেক হকারের কাছ থেকে প্রতিদিন ২০-৫০ টাকা করে চাঁদা উঠাতেন এসআই আকবর। তার পক্ষে কনস্টেবল জিয়া এই চাঁদা তুলতেন। সম্প্রতি জিয়া শিবেরবাজার ফাঁড়িতে বদলি হয়েছেন। সুরমা মার্কেটের ২টি, মহাজনপট্টি ও কালিঘাটের ২টি ও জিন্দাবাজারের ২টি হোটেল থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা করে মাসোহারা আদায় করতেন তিনি। এ ছাড়া কাস্টঘর, কিনব্রিজের নিচ ও কালিঘাট এলাকায় মা’/দ’/ক কারবারি ও জুয়াড়িদের (শিলং তীর) কাছ থেকে সপ্তাহ ভিত্তিতে টাকা আদায় করতেন আকবর। বন্দরবাজারকেন্দ্রিক একাধিক ছি’/ন’/তা’/ই’/কা’/রী’/ চ’/ক্র’/কে’/ও শেল্টার দিতেন ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর।


এ দিকে আকবরকে এই ঘটনার জের ধরে ইতিমধ্যে করা হয়েছে সাময়িক বরখাস্ত। এবং তার বিরুদ্ধে চলছে নানাবিধ তদন্ত। তবে দেশ জুরে এই ঘটনার মুল হোতা আকবরকে গ্রেফতারের জোড়ালো দাবি জানানো হয়েছে ইতিমধ্যে। তাকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য দেশের স্যোশাল মিডিয়াতে উঠেছে ঝড়।