রাজধানীর মাস্টার মাইন্ড স্কুলের ও লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকার সাথে সম্প্রতি ঘটে গেছে একটি নেক্কারজনক ঘটনা। আর এই ঘটনার মুল হোতা হচ্ছে ফারদিন ইফতেখার দিহান। এদিকে এই দিহানই নাকি এবার বলছে মিথ্যা কথা। নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে ’/ধ’/র্ষ’/ণ ও ’/হ’/ত্যা’/র’/ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারদিন ইফতেখার দিহান। এমনটিই দাবি করেছেন আনুশকার মা শাহানুরী আমিন। জবানবন্দিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফারদিন জানায়, আনুশকা সকালে তার মা’কে ফারদিনের বাসায় যাওয়ার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় তিনি আনুশকাকে দুপুরের খাবার কিনে দেয়ার কথা বললেও পরে নেয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহানুরী আমিন বলেন, এগুলো একদম মিথ্যা কথা। এ কথার একভাগেরও সত্যতা নেই। ফারদিনের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই ছিল না আমার মেয়ের। অভিযুক্ত ফারদিনের ’/ফাঁ’/সি’/ হলে আমি সন্তুষ্ট হবো। মানবজমিন।
তিনি বলেন, ফারদিনের পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ঘটনার দিন ফারদিন আমাকে ফোন দেয়ার পরে একাধিকবার তার ফোন বন্ধ করেছে আবার খুলেছে। আমি কখনো ফোন করে ফারদিনকে পেয়েছি আবার কখনো পাইনি।

তিনি বলেন, আমার ধারণা ফোনে যোগাযোগ করে আনুশকাকে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে অ’/চে’/ত’/ন’/ করে বাইরে থেকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ, আনুশকা আমার অনুমতি ছাড়া কখনো কারো বাসায় কোনোদিন যায়নি। আনুশকাকে ’/ধ’/র্ষ’/ণ এবং ’/হ’/ত্যা’/ ’শেষে ফারদিনের কিছু একটা করা দরকার এমন তাগিদে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন পালালেও ধরা পড়তো। ফারদিন নিজে ভালো এবং নির্দোষ সাজার জন্য আনুশকাকে হাসপাতালে নেয়। আমাকে ফোন দেয়া- সবই ছিল তার কৌশল। এমনকি আমার মেয়ের ফোন থেকেই আমাকে ফোন দেয় ফারদিন। আমার মেয়ে হয়তো বাঁচার জন্য চেষ্টা করেছে। ওর বাবাকে ঘটনার দিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করতে পারেননি। ব্যস্ত ছিলেন। মনে হয়, তখন আনুশকা কোনোভাবে বাঁচার জন্য কৌশলে ফোন দেয়ার চেষ্টা করেছে। সে সুযোগ পেলে হয়তো আমাকেও ফোন দিতো। হঠাৎ করে একবার একটি ফোন এসেছিল। শাহানুরী বলেন, আনুশকার পিঠে এবং নি’/ত’/ম্বে’/ অসংখ্য কা’/ল’/সি’/টে’/ ’/আ’/ঘা’/ত দেখা গেছে।’/ ’/র’/ক্ত’/ জমে গেছে। আনুশকাকে যেভাবে বিকৃ’//ত এবং হয়রানি-’/নি’/র্যা’/ত’/ন করে ’/মা’/রা’/ হয়েছিল সেটা বোঝা গেছে। ওখানে এটা শুধু একজনের কাজ ছিল না। ঘটনাস্থলে তারা চারজনই ছিল।

ফারদিন পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু হাসপাতালে যখন ’/মৃ’/ত’/ অবস্থায় নেয়া হয়েছে তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে তাদের আটক করে। পুলিশ চলে আসায় ফারদিন হাসপাতাল থেকে বের হতে পারেনি। ফারদিন এবং তার তিন বন্ধু তারা চারজনই এই ’/ধ’/র্ষ’/ণ ও হ’/ত্যা’/র’/ সঙ্গে জড়িত। এবং তারা প্রত্যেকেই হাসপাতালে বসা ছিল। এ সময় আমি ফারদিনকে বলি, আমার মেয়ে কোচিংয়ে গিয়েছে। তোমার সঙ্গে কেন? তখন ফারদিন জানায়, আমরা নিয়ে গিয়েছিলাম আনুশকাকে। এ সময় আমরা চারজনই ছিলাম। এখন বলছে ফারদিন একা ছিল। ইতিমধ্যে জেনেছি, ফারদিনের সঙ্গে থাকা তিন বন্ধুই প্রভাবশালী পরিবারের। তারা সংশ্লিষ্ট থানাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছে। ফারদিন তো বাঁচারই চেষ্টা করবে। সে বানিয়ে বানিয়ে কথাগুলো বলছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, তিনজনকে মুক্ত করতে পারলে ফারদিনকেও বয়স কম দেখিয়ে প্রভাব খাটিয়ে মুক্ত করার চেষ্টা করবে। আনুশকার মা বলেন, আনুশকাকে ’/হ’/ত্যা’/র’/ ’/পরে আমি যখন থানায় যাই তখন ফারদিনকে হাসি মুখে বসে থাকতে দেখা গেছে। ওর মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা ভয়-ভীতি ছিল না। তাদের চার বন্ধুকে থানায় বসে বিরিয়ানি খাওয়ানো হয়েছে। তাদের কোনো ওষুধ লাগবে কি-না জানতে চাওয়া হয় তখন। এ সময় তাদের ইচ্ছানুযায়ী মামলা সাজানো হয়। তখন আমার স্বামী মেয়ের শোকে বারবার চেতনা হারিয়ে ফেলছিলেন। আমি মামলার বাদী হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেয়নি।

আমি একটু শক্ত সামর্থ্য হওয়াতে আমাকে কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি। মামলায় কি লেখা হয়েছে সেটা পড়ার মতো হুঁশ ছিল না। তখন আনুশকার বাবার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। ফারদিন স্বীকারোক্তির নামে যে মিথ্যাচার করছে- এটা কোনো ভাবেই সঠিক নয়। এত বড় জঘন্য কাজ যে করতে পারে তার পক্ষে এই মিথ্যাচার করা অসম্ভব কিছু নয়। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটিই আবেদন, এত জঘন্যতম কাজ, অমা’/ন’/বি’/ক নি’/র্যা’/ত’/ন করে একটি নিষ্পাপ কিশোরীকে ’/হ’/ত্যা’/য়’/ অভিযুক্ত’ /ফার’/দি’নের দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠিনতম বিচার দাবি করছি। ভবিষ্যতে এরকম অন্যায় যেন আর কেউ করতে সাহস না পায় সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য যারা জড়িত তাদের সকলের শাস্তি দাবি করছি। তিনি বলেন, কারণ একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলে একটি মেয়ের প্রাণ এভাবে যাওয়ার কথা নয়। বাকি তিনজন খারাপ ছেলেটারই (ফারদিন) বন্ধু। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি না।

এ দিকে কলাবাগান থানার পরিদর্শক জানিয়েছেন নতুন তথ্য। বিশেষ করে দিহানের সাথে জড়ি তার তিন বন্ধুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের সংশ্লিষ্টতা না থাকার কারনে। তবে তাদেরকে রাখা হয়েছে নজরদারীতে। এবং সেই সাথে আনুশকার তদন্তের রিপোর্ট পাবার পরেই তাদের ভাগ্য নির্ধারন করা হবে। এ দিকে দিহানের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে। আর সেখানে দেখা গেছে আরো তিনজনকে। যা নতুন করে সৃষ্টি করেছে নতুন আলোচনা।