বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একটি উপকমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা। জানা গেছে দলটির তথ্য ও গবেষণা কমিটির সদস্য তালিকায় এবার নাম পাওয়া গেছে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের। আর এই ঘটনা নিয়েই এখন হচ্ছে বেশ তোলপাড়। এ দিকে এ নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ’একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা। এটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়কে ন;’গ্ন দলীয়করণের অপচেষ্টা ও অত্যন্ত মন্দ দৃষ্টান্ত।’

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের এই মনোভাব ব্যক্ত করেন।

নজরুল ইসলাম খান জানান, গত শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে যেসব প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে কুক্ষিগত ও কুলষিতকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটিতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেলকে সদস্য নিয়োগ করা অনেকেটাই বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা এবং নিঃসন্দেহক্রমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়কে নগ্ন দলীয়করণের অপচেষ্টা ও একটি অত্যন্ত মন্দ দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো কোনো সাংবিধানিক পদে দলীয় সমর্থক কাউকে নিয়োগ করার দৃষ্টান্ত থাকলেও কোন সাংবিধানিক পদাধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করার ঘটনা ১৯৭৫-এর বাকশালের কমিটি গঠনের পর আর ঘটেনি। জনগণের অর্থে যাদের বেতন-ভাতা পরিশোধিত হয় তাদের কারো বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের শক্তি ও সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হওয়া বা করা শুধু অন্যায় নয় অনৈতিকও বটে।

বিএনপি দৃঢ় ভাবে মনে করে যে, দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদের নিরপেক্ষতা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটর্নি জেনারেলের উচিত হয় দলীয় পদ কিংবা এটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করা। যারা তাকে নিয়োগ দিয়েছে তাদেরও উচিত অনৈতিক এই বিষয়টির গুরুত্ব ও জনমনে এর অনিবার্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে দলের উপ-কমিটি থেকে অবিলম্বে এটর্নি জেনারেলকে বাদ দেয়া।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সম্প্রতি নড়াইলের এক আদালতে অসুস্থ অবস্থায় নিজ গৃহে কারারুদ্ধ বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মতো অমানবিক ও অস্বাভাবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সভায় বলা হয় যে, তিনি যখন চিকিৎসার জন্যও ঘরের বাইরে যেতে অক্ষম তখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে নড়াইলের আদালতে হাজির হওয়ার নিষ্ঠুর আদেশ জারির সংবাদে সঙ্গতভাবেই দেশবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। সভায় অনতিবিলম্বে হয়রানিমূলক ও অমানবিক এ গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সভায় ওই হাস্যকর হ’/য়’/রা’/নি’/মূ’/ল’/ক’/ মামলায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

এছাড়া, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালে অনুষ্ঠিত জনসভায় যোগদানের জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ’জনতার মেয়র’ ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের গাড়ি বহরকে মাওয়া ঘাটে অন্যায়ভাবে আটকে দেওয়া, লঞ্চে পার হয়ে বরিশাল যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া, বরিশালে জনসভায় যোগদানকারী বিভিন্ন জেলা-অঞ্চল থেকে আগতদের নানা স্থানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সম্প্রতি সিলেটের একটি ঘটনা বেশ সাড়া ফেলে। সিলেটের মহানগরের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও তার সহকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হা’/ম’/লা, ’/শ’/ট’/গা’/ন’/ ব্যবহার এবং বেআইনি কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সভায় জোর দাবি জানানো হয়।