সম্প্রতি বিএনপির সিনিয়র নেতা আলাল আওয়ামী লীগকে নিয়ে বলেছেন অনেক কথা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানকে নিয়ে করেছেন নানা ধরনের মন্তব্য। তিনি বলেছেন,১৯৭২ সালে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা ’/হ’/ত্যা’/ শুরু হয়েছিলো। এ ছাড়াও তিনি আরো মন্তব্য করেন নোয়াখালীর চাটখিল থানা কমান্ডার মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনকে আ’/গু’/নে পু’/ড়ি’/য়ে’/ মা’/রা’/র’/ ’/মধ্য দিয়ে ৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা ’/হ’/ত্যা’/ শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের থানা কমান্ডারকে ’/আ’/গু’/নে’/ পুড়িয়ে ’/হ’/ত্যা’/ করেছে এই শাজাহান খানের গণবাহিনীর দল। নবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিদ্দিক মাস্টার, দোহার থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুনির্মল সিং, এরকম অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে ’হ/’/ত্যা’/ করেছে শাজাহান খানের লোকেরা। যারা বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের লোক ছিলো।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করা হচ্ছে। স্বাধীনতা তো কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সেজন্য সরকারি দলও পালন করছে, সাবেক সরকারি দল ও বর্তমান দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে বিএনপিও পালন করছে। কিন্তু আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে, এটা সুবর্ণ জয়ন্তী না। এটাকে সরকার রাজনীতিকীকরণ করে ফেলায় এর রং নষ্ট হয়ে গেছে, সেটাকে বলে বিবর্ণ। বিবর্ণ জয়ন্তীর কারণে এটার যে সৌন্দর্য তা নষ্ট হয়ে গেছে। এটার যে সার্বজনীনতা, সবার অংশগ্রহণ, তা নষ্ট করে ফেলেছে সরকার।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলেন, আল জাজিরা আপনাদের নাকাল করে ফেলেছে, তার জন্য তো আমরা দায়ী না। আল-জাজিরা আপনাদের এমন জায়গায় আ’/ঘা’/ত’/ দিয়েছে যে আপনারা ভয়ে আঁ’/ত’/কে’/ উঠেছেন। দেশের মানুষকে ভয় পান না। বিদেশি গণমাধ্যমকে ভয় পেয়েছে। ভয় পেয়ে কী করা যায়? এরপর তারা এমন একটা জায়গায় হাত দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের হৃ’/দ’/পি’/ন্ডে’/ আ’/ঘা’/ত’/ করেছে। এমন একটা জায়গা, বীর উত্তম জিয়াউর রহমান।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বীর উত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই নেতা, যার ছবি বাধাই করার জন্য কোনো আইন করা লাগে নাই বিএনপির। এই আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সংসদে আইন পাস করেছিলো শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙলে এতো হাজার টাকা জরিমানা, এতো বছর জেল এবং ছবি পাহারা দেয়ার জন্য পুলিশ, বিডিআর এবং অন্যান্য বাহিনীকে নিযুক্ত করেছিলো যাতে তার ছবি ভাঙচুর না হয় কোথাও। আর জিয়াউর রহমান সেই নেতা যার জন্য সরকারি ছুটি ঘোষণা করা লাগে না। যেটা আওয়ামী লীগ করেছে ১৫ আগস্টকে। জিয়াউর রহমান সেই নেতা যার ছবি দেশের মানুষের হৃদয়ে বাঁধাই করা রয়েছে। সেই জায়গায় হাত দিয়েছেন। সেই জায়গায় হাত দিলে মানুষের দৃষ্টি অন্য জায়গায় ফেরানো যাবে। আপনারা (আওয়ামী লীগ) কিছুটা সফল হয়েছেন।

শাজাহান খানকে নিয়ে বিএনপির মধ্যে আলোচনা সমালোচনার শুরুটা হয়েছিল মেজর জিয়ার খেতাব বাতিলের বিষয় নিয়ে কথা বলার পর থেকে। মেজর জিয়ার খেতাব বাতিল নেয়া বিষয় নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্যে করেন শাজাহান খান। আর এরপর থেকেই তাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনায় মেতে ওঠে বিএনপি।এ নিয়ে আলাল বলেন,তিনি বলেন, এই প্রস্তাবটা তুলেছিলেন শাজাহান খান আর তা সমর্থন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল। শাজাহান খান গণবাহিনীর লোক। শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকা অবস্থায় জাসদের তৈরি এই গণবাহিনী অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।