নেতা হওয়া এখন যেন হয়ে গেছে হাতের মোয়ার মত সহজ। আর এমন কথাই এখন ঘুরপাক করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পুরোনো এবং ত্যাগি নেতারা। যার নতুন একটি প্রমান মিলল আবারো।জানা গেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের গাড়িচালক শফিকুল ইসলাম শফিক। তাকে নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপ-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। অতীতে তার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের সুপারিশে গাড়ির চালক থেকে জেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বনে যান শফিক। এর আগে তিনি ছিলেন কাতার প্রবাসী।
জানা গেছে, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্যাডে লিখিত ভাবে উপ-বাণিজ্য বিষয়ক পদের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই পদে দায়িত্ব পান মো. শফিকুল ইসলাম (শফিক)। সেই প্যাডে লেখা ছিল- ’কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদেও অনুমোদনক্রমে আপনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নড়াইল জেলা শাখার উপ-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়েছে।’

সেই চিঠির আগ থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানেও রয়েছেন। তার আগে তিনি ঢাকাতে উবারের চালক হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন কাতারে অবস্থান করেছিলেন।
নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ’নেতা হওয়া এখন কোনো বিষয়ই না। চাইলে আপনিও হতে পারবেন। কোনো দিন মাঠে না থেকেও যদি পদ পায় তাহলে ত্যাগীরা কী করবে। তার লবিং ভালো ছিল, হয়তো সেই কারণে বনে গেছে। সংগঠনের দুদিনের কথা ভুললেও চলবে না। ত্যাগীরাই সংগঠনের মূল। তারা বিপদে-আপদে মাঠে ছিল, ভবিষ্যতে থাকবে। আর যারা লবিংয়ে নেতা হয়েছেন তাদেরকে খোঁজেও পাওযা যাবে না।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেশ কয়েক নেতার সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা সাধারণ সম্পাদকের গাড়ির চালক হিসেবে শফিককে চিনি। অনেক সময় সাধারণ সম্পাদক শফিক বলেই ডাকতে শুনেছি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টার্চাযের গাড়ির চালক কী-না জানতে চাইলে হ্যাঁ সূচক দেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ’আমি নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ করি, উপ-বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছি। তার আগে লোহাগড়া থানার শালনগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি কাতারে ছিল। লেখক ভট্টাচার্যের সাথে চালকের পেশা রয়েছেন বলে তিনি জানান। ২০১৫ সালের যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটিতে ছিলেন, তবে ছাত্রলীগের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নাই বলে তিনি জানান।

জানতে চাইলে নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বলেন, ’কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদেরকে চিঠি দিয়েছিল। আর আমরা যখন পূণাঙ্গ কমিটি জমা দিতে চাই। তখন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি বললেন-নড়াইলের একটা ছেলের জন্য আমার একটি রিকোয়েস্ট আছে। তখন আমি বললাম, সে সিভি দিয়েছে, সে যা চায় এটা আমরা দিতে পারব না। ওর থেকে সিনিয়র অনেকে নেতৃবৃন্দ আছে। তাদেরকে এখানে দিতে হবে। ওকে দিতে হলে আমরা সম্পাদক, মেম্বার দিতে পারবো।’

জানতে চাইলে নড়াইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম উজ্জল বলেন, ছাত্রলীগের সেক্রেটারির অনুরোধ কী-না জানি না, আমাকে আমার সেক্রেটারি (কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান) বলছেন তার নাম। আফজালুর রহমান বাবু ভাই তার নামটা রাখতে বলছে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের গাড়িচালক এটা ঠিক আছে জানিয়ে নড়াইল জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরো বলেন, আমার কমিটির সেক্রেটারি বললেন, ’এই নামটা রাখো। আমি না করতে পারি?’

কমিটিতে রাখার আগে তাকে কখনও দেখছেন কী না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ’কমিটি দেয়া আগে ওই ভাবে চিনতাম না। বাড়ি লোহাগড়া সেই হিসেবে চিনতাম।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগে সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বলেন, ’আমরা পুরো কমিটি দিয়েছি, দুই-একটা নামে সমস্যা থাকলে পরিবর্তন করে দেব। ভূল হইতে পারে। কেউ রিকোয়েস্ট করলে আমাদের নাম দিতে হয়। সে যদি কোয়ালিটি লেস হয় আমরা বাদ দিয়ে দেব। এখানে ... ইয়ে করে দেয়া হয়নি, দেয়া হয়েছে একটা রিকোয়েস্টে।’

এ দিকে চারিদিকে এখন এই নিয়ে হচ্ছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করার জন্য ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি