সুতপা মন্ডল বর্তমমানে বাংলাদেশ ভাইরাল একটি নাম। ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গিত শিল্পি লতা মঙ্গেশকরের কঠিন একটি গান বেশ সাবলীল ভাষায় সুরেলা কন্ঠে গেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে অনলাইন দুনিয়ায়। যার ফলে রাতারাতি বনে গেছে ক্ষুদে তারকা শিল্পি হিসেবে। লতা মঙ্গেশকরের ’যা রে যা রে উড়ে যা রে পাখি’, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের ’আকাশের অস্তরাগে’ কিংবা নাহিদ নিয়াজির ’আকাশের ওই মিটিমিটি’ গানগুলো সুতপার কণ্ঠে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর থেকে সুতপার গায়কি কণ্ঠ নিয়ে দেশের সংগীতাঙ্গনে বেশ হইচই চলছে। এবার এই ক্ষুদে শিল্পিকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সঙ্গীত পরিচালক শওকাত আলী ইমন।
সুতপার গান শোনার পরে শিল্পী আবিদা সুলতানার ছোট ভাই জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক শওকাত আলী ইমন কে ফোন করে বলেন, ’সুতপা’ মেয়েটার গলাটা অসম্ভব ভালো, তুই মেয়েটা কে সিনেমাতে সুযোগ দিতে পারিস। বোনের কথা ফেলতে না পেরে শওকাত আলী ইমন সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তর এর সাহায্য নিলেন। পরের দিন মেয়েটার বাবার সাথে যোগাযোগ করা হলো সাতক্ষীরা জেলা প্রেসক্লাব এর সভাপতি’এম জিল্লুর রহমানের মাধমে। মেয়েটার বাবাকে ফোন করে ইমনের পরিচয় দিয়ে সুতপাকে শেলী মান্না প্রযোজিত "জ্যাম’ সিনেমাতে গান করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

তখন সুতপা মন্ডলের বাবা শওকত আলী ইমনকে বিনয়ের সাথে বলেন আমার মেয়ের স্কুল কমিটির অনুমতি ছাড়া কিছু করতে পারবোনা স্যার, আর মেয়েকে এখন কোনও গান করতে দিতে চাচ্ছি না, তার পড়া লেখা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এক সপ্তাহ পরে শওকাত আলী ইমন জানতে পারেন ’সুতপা মন্ডল’ প্রথম মাইক্রো ফোনের সামনে দাঁড়ালেন। গাইলেন কুমার বিশ্বজিতের সুরে, কবির বকুলের লেখা ’মুখোমুখি’ শিরোনামে গানটি।

এমন সংবাদ দেখে কষ্ট নিয়ে ইমন বলেন, শিল্পীরা চলচ্চিত্র প্লে-ব্যাক করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন। জীবনে একটি সিনেমাতে যদি প্লে-ব্যাক করতে পারতেন তাহলে তাদের জীবন সার্থক মনে করতেন। সেই প্লে-ব্যাকে সুযোগ পেয়েও হাত ছাড়া করলেন ’সুতপা মন্ডল’। দোয়া করি ’সুতপা মন্ডল’ বাংলা সঙ্গীতের একটি নক্ষত্র হয়ে থাক সারাজীবন।

উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার কোদণ্ডা গ্রামের ১২ বছর বয়সী সুতপা তার সামনে এখন সামনে এগোনোর হাতছানি। নিজের জাদুমাখা সুরেলা কন্ঠে সকলে মাতিয়ে রেখেছে এই ছোট মেয়েটি। কুমার বিশ্বজিতের সাথে গান গাইতে পেরে বেশ উচ্ছাস্বিত সুতপা নিজেও। কুমার বিশ্বজিতের সাথে গান গাওয়ার পরে সুতপা বলে, ’গানটি করার সুযোগ পাওয়ায় ভালো লাগছে। যখন গানটি করছিলাম, প্রথমে ভয় ভয় লাগছিল। তবে দুই বারেই গানটি করতে পেরেছি। কবির বকুল স্যার আমার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর কুমার বিশ্বজিৎ স্যার সুযোগ করে দিয়েছেন গান করার।’