বাংলাদেশের গানের জগতকে সমৃদ্ধ করে রেখেছেন এমন শিল্পী বাংলাদেশে অনেক এসেছেন আবার চলেও গিয়েছেন। তবে গতকাল বিদায় নিল বাংলাদেশের এমন এক জন শিল্পী যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্লেব্যাক সম্রাট। বলছিলাম এন্ড্রু কিশোরের কথা। যার মত শিল্পী হয়তো বাংলাদেশে আর কোন দিনও আসবে না। আধুনিক বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছে তার কণ্ঠ। তাকে বলা হয় এদেশের সিনেমার গানের সম্রাট। সত্তর দশকের শেষদিকে গান গাওয়া শুরু করেন সিনেমার জন্য। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ১৫ হাজার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। বলা চলে বাংলা চলচ্চিত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন প্লেব্যাক করে।
এতে একদিকে যেমন পেয়েছেন কোটি মানুষের ভালোবাসা তেমনি ৮বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও ঘরে তুলেছেন তিনি। তবে জীবনে প্রথম গান গেয়ে এন্ড্রু কিশোর মাত্র ৮০০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে এন্ড্রু কিশোর নিজেই জানিয়েছিলেন মজার এই তথ্য। আরও মজার ঘ’টনা হলো, সেই পারিশ্রমিকটাও নিজের হাতে পাননি তিনি। স্কুলের এক বড় ভাই খরচ করে ফেলেছিলেন।


এ ঘ’টনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ’’প্রথম কোনো গান করলাম পেশা হিসেবে। সে গানের জন্য পারিশ্রমিক ৮০০ টাকা দেবে ঠিক হলো। তখন আমি রাজশাহী থাকি। টাকাটা ছিলো ঢাকায়। এসময় খবর পেলাম স্কুলের এক বড় ভাই ঢাকা থেকে আসছেন। যারা টাকাটা দেবে তাদের বলে দিলাম, আমার টাকাটা ভাইয়ের কাছে দিয়ে দিন। সেই ভাই তার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে খাওয়াদাওয়া করে সব টাকা শেষ করে ফেললো।’’ তবে চলচ্চিত্রে যখন নিয়মিত গাইতে শুরু করেন তখন প্রতিটি গানের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পেতেন এন্ড্রু কিশোর।


দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ক্যা’/ন্সা’/রে’/ র মত ম’/র’/ণ’/ব্য’/ধি তে ভুগেছেন। চিকিৎসার জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। সেখানে থেকে বেশ কয়েক মাস তিনি চিকিৎসা নেন। শেষ করেন তার ক্যমো থেরাপি। এর পর ডাক্তারদের সবুজ সংকেত নিয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশের বুকে। এখানে এসেও বেশি কয়েকদিন ভালো থাকলেও গতকাল চলে যান না ফেরার দেশে। তার কারনে এখন সারা দেশে চলছে শোকের মাতম।