ইভ্যালি এখন বাংলাদেশের টক অব দ্যা টাউন। ই-কমার্স ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সারা দেশে আলোচনায় এসেছে তাদের জালিয়াতির কারনে। গত জুনে আলোচিত ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির প্রধান প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। মাসখানেক আগে তিনি ওই কোম্পানি ছেড়ে তিনি চলে আসেন।
শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ফারিয়া উল্লেখ করেন, ’কিছু বিষয় এখন পরিস্কার করার সময় এসেছে। আমি জুন-জুলাই এই দুই মাস একটি "ই কমার্স সাইটে" তাদের গণসংযোগ বিভাগে কাজ করেছি। আমি সেখানে যোগদানের ১৫ দিন পর থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি রিপোর্ট চলে আসায় তাদের কার্যক্রম অনেকটাই কমে এসেছিল। জুলাইয়ের পর আমার দাপ্তরিক কোন কাজই ছিল না! তাই আগস্টে আমি চাকরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে আসি।’

তিনি আরও জানান, ’আমি কখনও প্রকাশ্যে কোথাও এই কোম্পানির প্রমোট করিনি। কখনো বলিনি আপনারা বিশ্বাস রাখেন কিংবা আস্থা রাখেন। কারণ সেখানে দাপ্তরিক কাজের বাইরে আমার কোনো কিছু প্রচার প্রকাশের কোনো চুক্তি ছিল না। যেহেতু আমি পেশায় অভিনেত্রী সুতরাং আমাকে কোনো কোম্পানির প্রচারের কাজে অংশ নিলে আলাদা সম্মানি দিতে হয়। সেখানে সেই সুযোগ নেই।’

চাকরি ছাড়ার বিষয়টি না জানানোর বিষয়ে ফারিয়া যুক্তি উপস্থাপন করেন, ’আমি অহেতুক আলোচনার অংশ হতে চাইনি। আরিফ আর হোসাইন ভাই যখন বললেন, তিনি আর এখানে কাজ করছেন না। তখনও আপনারা তাকে নিয়ে ট্রোল করলেন। চাকরি ছাড়লেও সমস্যা, কাজ করলেও সমস্যা! কোথায় যাবো? অপ্রয়োজনীয় আলোচনার অংশ হতে ভাল লাগে না। কিন্তু আমার ভাগ্য এতো খারাপ কেন, আমারই সবসময় আলোচনা/সমালোচনায় পড়তে হয়।’

বিবৃতিতে তিনি প্রকাশিত কিছু সংবাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ’কিছু গণমাধ্যম লিখছে আমি নাকি অভিযোগ করেছি বেতন পাইনি! কাকে অভিযোগ করেছি? কখন অভিযোগ করেছি? কীভাবে করেছি? এই প্রমাণ কেউ দিচ্ছে না! আমার অভিযোগ থাকলে সেটা আমি প্রতিষ্ঠানটির এইচআর ডিপার্টমেন্টে করবো। সাংবাদিক ভাইদের কেন করবো? তারা কি আমাকে বেতন দেবে?’

ইভ্যালি নিয়ে আশা প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ’আমি যেই কোম্পানিতে কাজ করেছি তারা এখন একটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আশা করবো, তারা সব দায় পরিশোধ করে গ্রাহকদের পাশে থাকবে!’


এ দিকে এই ইভ্যালির সিইও ও তার স্ত্রীকে নেয়া হয়েছে রিমান্ডে। তিন দিনের রিমান্ডের ১ ম দিন ছিল আজ। আর এই প্রথম দিনেই অনেক তথ্য দিয়েছেন তারা দুজন। খোজ নিয়ে জানা গেছে তাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।