রাজধানীতে পরিবহনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাত-দিন সমানতালে রাস্তায় কর্তব্য পালন করে যাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশরা। রোদ-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করা তাদের পেশাগত প্রথম শর্ত।
কিন্তু কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশদের জন্য প্রয়োজনীয় টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে পড়তে হয় নানা ভোগান্তিতে। বিশেষ করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন নারী ট্রাফিক পুলিশরা।
কেবল ঝড়-বৃষ্টিই নয় দিনের স্বাভাবিক সময়েও নারী ট্রাফিক পুলিশদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দায়িত্বরত অবস্থায় অন্যের বাসা-বাড়িতে যেতে হয়। এক্ষেত্রে পুরুষ ট্রাফিক পুলিশরা রাস্তার আশপাশে প্রয়োজনীয় এই কাজটি সারতে পারলেও বিপাকে পড়েন নারী ট্রাফিক পুলিশরা।
ট্রাফিক পুলিশদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অতি আবশ্যকীয় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন নতুন সময়ের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সালেহউদ্দিন সোহেল।
গত এক সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রফিক পুলিশের পূর্ব ও দক্ষিণ বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশদের ভোগান্তির কিছু নমুনা। যার মধ্যে ট্রাফিক পুলিশরা দায়িত্ব পালনকালে পড়েছেন টয়লেট বিড়ম্বনায়। জরুরি কাজটি সারতে যেতে হচ্ছে কাছের আবাসিক হোটেল, বাস কাউন্টার, অফিস অথবা কারো বাসা-বাড়ির টয়লেটে। এ অবস্থায় বিশেষ করে নারী ট্রাফিক পুলিশরা পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে।রাজধানীর ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনের ব্যস্ততম মোড়ে কথা হয় নারী পুলিশ সার্জেন্ট তানজিলার সঙ্গে। টয়লেটবিহীন রাজপথে দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজন কীভাবে সারেন? জানতে চাইলে তানজিলা নতুন সময়কে বলেন, নারী হিসেবে বলতে পারেন এটা কঠিন বাস্তবতার মধ্যে পড়া, পুরুষ সহকর্মীদের মতোই পাশের কোনো মার্কেট, বাস কাউন্টার, বিভিন্ন অফিস অথবা বাসা-বাড়ির টয়েলেটে যেতে হয়। কারণ প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিয়ে কি থাকা যায়?
নারী হিসেবে অপরিচিত কারো টয়লেটে যেতে ভয় বা সংকোচের বিষয়ে জানতে চাইলে তানজিলা বলেন, নিজেকে এখন আর নারী ভাবি না, পেশার স্বার্থে এটা স্বাভাবিকভাবে নিয়েছি, তবে আমাদের এমন ভোগান্তি হয়ত কর্তৃপক্ষ সমাধান করবে এমনটাই আশা করি।
তানজিলার খুব কাছেই দায়িত্বরত (টি-আই) মো. আলমগীরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, টয়লেট ভোগান্তি ঢাকাজুড়েই রয়েছে। বিশেষ করে নারী সার্জেন্ট, কনস্টেবলদের ভোগান্তি চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন কোম্পানির কল্যাণে ট্রাফিক বক্স থাকলেও ভেতরে টয়লেট নেই, শুধু কিছু পুরাতন ট্রাফিক বক্স রয়েছে, কিন্তু এটা অপর্যাপ্ত। এমন ভোগান্তিতে কর্মঘণ্টাও কমছে বলে জানান ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ট্রাফিক কনস্টেবল বলেন, টয়লেট ভোগান্তি অসহনীয় লাগে মাঝে মাঝে। কারণ অনেক জায়গায় বিশেষ করে বাস কাউন্টার, মার্কেট ও অফিসেও টয়লেট খুঁজে পাওয়া যায় না, ফলে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। তারপরও চাকরির শর্ত অনুযায়ী রাস্তায় ঝড়-বৃষ্টি মাথায় করেও আমরা কর্তব্য পালন করছি, কিন্তু টয়লেট সমস্যা বিশেষ করে নারীদের জন্য বাড়তি বিড়ম্বনা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ট্রাফিক) পূর্ব বিভাগে নারী সার্জেন্ট রয়েছেন দুইজন, এছাড়া নারী কনস্টেবল রয়েছেন চার জন। নারী ছাড়াও পুরুষদের ভোগান্তি রয়েছে সমান তালে। অনেক স্থানে টয়লেট খুঁজে না পেলে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয় ট্রাফিক পুলিশদের, এমন পরিস্থিতিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় বলে জানান পুরুষ ট্রাফিক পুলিশদের অনেকে।সায়েদাবাদ মোড়ে কথা হয় ডিউটিরত সার্জেন্ট রবিউলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে টয়লেট খুঁজে খুঁজে কাজ সারতে হয় আমাদের। আর টয়লেট ধারেকাছে না থাকলে পরিত্যক্ত জায়গা খুঁজে বের করেতে হয়। এছাড়া কি করার আছে?
রাজধানীর ট্রাফিকের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সচিবালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট মোড়ে ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক বক্সের সামনে দায়িত্বরত সার্জেন্ট জুয়েল বলেন, কি বলবো ভাই, বিকেল ৫টা থেকে টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। কিন্তু দুই ঘণ্টা থেকে টয়লেটে যেতে পারিনি।
কেন যেতে পারছেন না- প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিকেল থেকে ভিআইপির চাপ ছিল তাই যেতে চাইলেও যেতে পারছি না। আবার যদি এখানে (বক্সে) টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারতাম। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের পূর্ব-বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইদুল ইসলাম নতুন সময়কে বলেন, সত্যি এটা ভোগান্তি, তবে সিটি করপোরেশন পরিকল্পিত ট্রাফিক বক্স করার কাজ হাতে নিয়েছে। নগরীর প্রত্যেকটি ট্রাফিক পয়েন্টে টয়লেটসহ পুলিশ বক্স তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই তা দৃশ্যমান হবে।
সূত্র:sokalersongbad /taza-khobor