সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাতি নিধনের পরও সেদেশের সরকার পাশে পাচ্ছে ভারত, চীন এবং রাশিয়ার মত পরাশক্তিকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর পেছনে মিয়ানমারের সাথে এসব দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে, যা তাদের কাছে মানবিকতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্থনৈতিক মেরুকরণ মাথায় রেখে পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ সাবেক কূটনীতিকদের।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত ও চীনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। ভারত তার সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ সহজ করতে, কোলকাতা- থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতোএ বন্দর হয়ে মিজোরাম পর্যন্ত জল ও স্থলপথে কালাদান নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দেশটি পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে দিল্লি থেকে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ’ কিলোমিটার সড়ক পথ গড়ে তুলতে চায় ভারত।
অন্যদিকে, চীন মিয়ানমারে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের পাশাপাশি কোয়াকু বন্দর এবং ৪ হাজার একরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করছে। রাশিয়াও দেশটিতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে । বিশ্লেষকদের মতে এসব কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই দেশগুলোকে পাশে পাচ্ছেনা বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ’তাদের (মিয়ানমারের) গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে ভারত। তেল এবং গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে চীন। তাদের তেলের লাইন দুটো প্রদেশজুড়ে চীন পর্যন্ত গেছে- একটা হলো, রাখাইন এবং অন্যটি শান। ঠিক একিভাবে বর্ডার এরিয়াতে তাদের সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ভারত। এই ধরণের অর্থনৈতিক স্বার্থ মানবিক স্বার্থকে উপেক্ষা করতে উৎসাহিত করছে এই তিন দেশকে যাদের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিকভাবে সুসম্পর্ক আছে। তারা কিন্তু কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের পাশে নেই।’
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মিয়ানমারের অর্থনীতি অন্যান্য দেশের সঙ্গে আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে , রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এটাই কাজে লাগোনা যেতে পারে বলে মনে করেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ’এখন মিয়ানমারের প্রধান অর্থনৈতিক প্রাধান্যের মধ্যে একটা হচ্ছে বাইরের পৃথিবী থেকে বিনিয়োগ পাওয়া। এখন যদি অস্থিরতা তৈরি হয় তাহলে বাইরের যারা বিনিয়োগকারী আছে তারা কিন্তু অনিশ্চয়তায় পড়বে। অর্থনৈতিকভাবে মিয়ানমার যে লাভের স্বপ্নটা দেখছে সেটাকে ব্যবহার করেই কিভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় সেই সম্ভাবনাটাকে আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মেরুকরণ মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ পর্যবেক্ষকদের।
             সূত্র: Somoy TV
কেন ভারত, চীন, রাশিয়াকে পাশে পাচ্ছে মিয়ানমার ? জানলে আপনিও ....
Logo
Print

বিশেষ প্রতিবেদন


 


সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জাতি নিধনের পরও সেদেশের সরকার পাশে পাচ্ছে ভারত, চীন এবং রাশিয়ার মত পরাশক্তিকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর পেছনে মিয়ানমারের সাথে এসব দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ কাজ করছে, যা তাদের কাছে মানবিকতা ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্থনৈতিক মেরুকরণ মাথায় রেখে পরিকল্পনা নেয়ার পরামর্শ সাবেক কূটনীতিকদের।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত ও চীনের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দেশ মিয়ানমার। ভারত তার সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ সহজ করতে, কোলকাতা- থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিতোএ বন্দর হয়ে মিজোরাম পর্যন্ত জল ও স্থলপথে কালাদান নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দেশটি পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে দিল্লি থেকে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত ১ হাজার ৪শ’ কিলোমিটার সড়ক পথ গড়ে তুলতে চায় ভারত।
অন্যদিকে, চীন মিয়ানমারে তেল ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের পাশাপাশি কোয়াকু বন্দর এবং ৪ হাজার একরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করছে। রাশিয়াও দেশটিতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে । বিশ্লেষকদের মতে এসব কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই দেশগুলোকে পাশে পাচ্ছেনা বাংলাদেশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজীম উদ্দিন খান বলেন, ’তাদের (মিয়ানমারের) গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে ভারত। তেল এবং গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে কাজ করছে চীন। তাদের তেলের লাইন দুটো প্রদেশজুড়ে চীন পর্যন্ত গেছে- একটা হলো, রাখাইন এবং অন্যটি শান। ঠিক একিভাবে বর্ডার এরিয়াতে তাদের সড়ক নির্মাণের কাজ করছে ভারত। এই ধরণের অর্থনৈতিক স্বার্থ মানবিক স্বার্থকে উপেক্ষা করতে উৎসাহিত করছে এই তিন দেশকে যাদের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিকভাবে সুসম্পর্ক আছে। তারা কিন্তু কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের পাশে নেই।’
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মিয়ানমারের অর্থনীতি অন্যান্য দেশের সঙ্গে আন্তঃনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে , রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এটাই কাজে লাগোনা যেতে পারে বলে মনে করেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ’এখন মিয়ানমারের প্রধান অর্থনৈতিক প্রাধান্যের মধ্যে একটা হচ্ছে বাইরের পৃথিবী থেকে বিনিয়োগ পাওয়া। এখন যদি অস্থিরতা তৈরি হয় তাহলে বাইরের যারা বিনিয়োগকারী আছে তারা কিন্তু অনিশ্চয়তায় পড়বে। অর্থনৈতিকভাবে মিয়ানমার যে লাভের স্বপ্নটা দেখছে সেটাকে ব্যবহার করেই কিভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় সেই সম্ভাবনাটাকে আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।’
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মেরুকরণ মাথায় রেখেই বাংলাদেশকে পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ পর্যবেক্ষকদের।
             সূত্র: Somoy TV
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.