জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এটাই জীবন। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। জীবনে কষ্ট আসলে মানসিক ভাকে যতটুকু ভেঙ্গে পড়বে জীবন তার দ্বিগুন পিছিয়ে যাবে। জীবনের সকল দূঃখ কষ্ট ও বাস্তবতাকে জীবনের অংশ হিসাবে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করার নামই হচ্ছে সুখ। আর তাই জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা যেন মেনেই নিয়েছে সুভাষ। বলছিলাম পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকা দক্ষিণ গোবিন্দকাটি গ্রামের ছেলে সুভাষ চন্দ্রের কথা।
ট্রেনের বিভিন্ন কামরায় যাত্রীদের জুতা পালিশ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র দাস।
সার্টিফিকেটটি পেলে কারও জুতা আর পালিশ করতে হবে না, বসবেন খ্যাতনামা কোনো কোম্পানি বা কোনো সরকারি অফিসের চেয়ারে, এমন স্বপ্নই দেখতেন।

কিন্তু স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করে এখনও রাস্তার পাশে বসে সেই জুতা পালিশ করে যাচ্ছেন সুভাষ। বরং বাড়তি আয়ের জন্য ট্রেনের পাশাপাশি ফুটপাতেও জুতা পালিশের কাজ করে যাচ্ছেন এ যুবক।

উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি না পেয়ে এভাবে জুতা পালিশ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী এলাকা দক্ষিণ গোবিন্দকাটি গ্রামের সুভাষ চন্দ্র।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, ইতিহাস বিষয়ে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন সুভাষ। একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে কলকাতায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে ভাগ্যে ভালো কোনো চাকরি জুটেনি। তাই পুরনো পেশাকে ছাড়তে পারছেন না।

ইতিহাসের ছাত্র সুভাষ খুব গুছিয়েই নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস জানালেন। সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ’শুধু জুতাই পালিশ করছি না, আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছি তা স্থানীয়রা জানেন। সে সুবাদে কয়েকটা টিউশনিও করি।’

তিনি বলেন, ’ জুতা পালিশ করি বলে বারাসতে যে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতাম, সেখান থেকেও বিতাড়িত হয়েছি। তার পরের কয়েকটা দিন রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই ঘুমাতাম। আর যাত্রীদের জুতা পালিশ করে দিতাম। বিষয়টি দেখে স্থানীয় এক মুদি দোকানি আমাকে তার বাড়িতে থাকতে দেন। সেখানে ছাত্র পড়ানোর সুযোগও করে দেন তিনি।’

তবে জুতা পালিশের কাজ কখনই ছেড়ে দেননি সুভাষ। তিনি বলেন, ’সংসারের সব ভরণপোষণের দায়িত্ব আমারই। তাই এ কাজ করতে আপত্তি নেই আমার।’

স্থানীয় বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল বলেন, ’উচ্চশিক্ষিত যুবককে জুতা পালিশ করতে দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। ওর জন্য ভালো একটা চাকরির চেষ্টা করছি আমি।’

দিনরাত জুতা পালিশ করে গেলেও সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখাটা এখনও ছাড়তে পারেনি সুভাষ। কোনো কাজই ছোট নয় জানিয়ে সুভাষ জানান, চাকরি না পেলে রেলের বগিতে জুতা পালিশ করেই জীবন পার করে দিতে সমস্যা নেই তার।


উল্লেখ্য, যোগেশগঞ্জ হাইস্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সুভাষ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ছোট থেকেই ছেলেটা মেধাবী। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়েছে। এখনও যেভাবে সংসার চালাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।