মহিউদ্দীন চৌধুরী বাংলাদেশের অন্যড়ম বড় ও প্রথম সারির নেতা ছিলেন মহিউদ্দীন চৌধুরী।শুধু রাজৈতিক নেতাই নন। মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অতি কাছের ও আদরের ছাত্রনেতা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে আইএসআইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদর দপ্তরের কাছে গ্রেপ্তার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস। সর্বশেষ নির্যাতিত হন ওয়ান ইলেভেনের সময়। ষাটোর্ধ বয়সে কারাগারে ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই তার আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পাকে হারান। সেই সময় তার মরহুম মেয়ে টুম্পা তাকে লিখেছিলেন একটি চিঠি।
মরহুম মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রিয় বোন টুম্পা’র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরেছেন সেই চিঠি।লিখেছেন-’জনকের প্রতি আবেগঘন উষ্ণতা মেখে আমার আদরের ছোট বোন অভিমানী ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার জীবনের প্রথম এবং শেষ চিঠি’।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে চিঠিটি তুলে ধরা হলো:-

’প্রিয় বাবা, তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছগুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি, তারাও এখন খুব বিষণ্ন, নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাববোধ করছে। আমি, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই।"


প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন টুম্পা। ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা অনেক সাধাসিধে ছিল। তার বাবা মেয়র- এই বিষয়টি আমরা অনেকেই জানতাম না। এক-এগারোর সময় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হলে জানতে পারি টুম্পা তার মেয়ে।

ড. অনুপম সেন বলেন, টুম্পা তার মৃত্যুর আগে পিতার সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেনি। সেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার টুম্পার বাবার প্রতি নির্দয় আচরণ করে। টুম্পাকে দেখার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এমনকি তিনি মুক্তি পাওয়ার পরও ব্যাংককে যেতে সরকার তালবাহানা করে যাত্রা বিলম্বিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেই তিনি টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পান। এটা শুধু মহিউদ্দিন চৌধুরীর জন্য নয়, আমাদের সকলের জন্য একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।

প্রসঙ্গত, মহিউদ্দিন চৌধুরীর জীবনে রয়েছে নানা সংগ্রামী ঘটনা। নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। জীবনের তাগিদে তাকে করতে হয়েছে রেডিও মেকানিকের কাজও। সেই তিনি আবার চট্টগ্রামের লালদীঘিতে যখন হাজির হন তখন তার জ্বালাময়ী বক্তব্য শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মহিউদ্দিন চৌধুরী রাজনৈতিক জীবনে অনেকবারই কারাগারে গেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তাকে যেতে হয়েছিল কারাগারে। সেই সময় তার কন্যা ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার মৃত্যু তাকে ভীষণ রকম আবেগতাড়িত করে।