পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই কোন না কোন দেশে বাস করে। আর প্রতিটা মানুষই তার নিজ দেশকে একটু হলেও ভালোবাসা।একটি দেশের নাগরিক এটা দেশের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য অনেক।কিন্তু বর্তমান সমাজে যদি আমরা একটু লক্ষ্য করি এ দায়িত্ব কর্তব্য অনেকেই মানে না।বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশে এই দায়িত্ববোধ দেখা যায় না বললেই চলে।শুধু মুখেই আমরা বলি ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা কিংবা আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি কিন্তু বাস্তব অংশে তার কোনটি হয়তো আমরা ঠিকভাবে মানতে পারিনা।তুমি পশ্চিমা বিশ্ব একটু নজর করলে দেখা যাবে তারপর থেকেই তাদের নিজ নিজ থেকে কতটাই না ভালবাসে। বাংলাদেশ ইমন বহু নজির রয়েছে যেখানে বিদেশীরা বাংলাদেশে এসে করে গেছে আর্ত মানুষের সেবা। অসুস্থ খোঁজ নিয়ে জানা যায় এদেশের মানুষের মানুষের তেমন একটা উপকার আসে না।কিন্তু টাঙ্গাইলবাসীর পরিচিত মুখ নিউজিল্যান্ড নিবাসী ডাক্তার এন্ড বেকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন অনন্য। নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের আর্ত মানুষের সেবার তোরে।সম্প্রতি আটলান্টা প্রবাসী সকল বিষয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-
টানা ৩২ বছর টাংগাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কালিয়াকৈরে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের চিকিৎসা দেয়ার পর মারা যান ডাক্তার ভাই হিসাবে পরিচিত ডাক্তার এড্রিক বেকার। দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হলে অনেকেই চেয়েছিলেন- উনাকে ঢাকাতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিতে। তিনি ঢাকা যাননি। তাঁর তৈরি করা হাসপাতালেই তিনি ২০১৫ সালে মারা যান।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি চেয়েছিলেন- এই দেশের কোনো মানবতবাদী ডাক্তার যেন গ্রামে এসে তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের হাল ধরে। কিন্তু হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুসারে – এ দেশের একজন ডাক্তারও তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

দেশের কেউ সাড়া না দিলেও তাঁর আহ্বানে সূদর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন- আরেক মানবতাবাদী ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডি। যে দেশে যাওয়ার জন্য দুনিয়ার সবাই পাগল। শুধু নিজেরা যে এসেছেন তা না। নিজেদের সন্তানদেরও সাথে করে নিয়ে এসেছেন। ভর্তি করে দিয়েছেন গ্রামেরই স্কুলে। গ্রামের শিশুদের সাথে খেলছে । ডাক্তার জেসিন কী সুন্দর করে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আমরা সুযোগ পেলেই গ্রাম থেকে শহরে ছুটি। শহর থেকে বিদেশ পাড়ি দেই। শিশু জন্মের পর থেকেই চিন্তা থাকে কত দ্রুত সন্তানকে আধুনিক মিডিয়াম ইংরেজি স্কুলে বাচ্চাকে পড়াবো। লুঙ্গি পরাতো আমাদের রুচির সাথে আজ বড়ই বেমানান। লুঙ্গি পরতে পারিনা বলতে পারলে- আমাদের আভিজাত্যের পারদ শুধু একটুকু না অনেকটুকুই বাড়ে। বনানী গুলশান পশ এলাকায়তো একবার লুঙ্গি পরাই নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলো। কারণ- ওরা জানেনা- ওদের প্লেটে যে খাবার যায়- তা এদেশের লুঙ্গি গামছা পরা কৃষকরাই তোলে দেয়।

শিশুরা কত সুন্দর করে ইংরেজি বলতে পারে- বাবা মায়ের গর্বের শেষ নেই। একটা কবিতা তো আছে-সম্ভবত এরকম যেন লাইনগুলো-বাবা-মা খুব অহঙ্কার করে সন্তানদের নিয়ে বলছেন "জানেন মশাই, ওদের বাংলাটা ঠিক আসেনা"।

একবার বিদেশ পাড়ি জমাতে পারলেই – আমরা মাটি কামড় দিয়ে পড়ে থাকি। কোনো একটা লেখায় পড়লাম- বিদেশের এক শিক্ষক বাংলাদেশের এক অধ্যাপককে বলছেন- আপনাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে পড়ালেখা করে কি দেশে ফিরে যায়?

উনি লজ্জায় বললেন- বেশীর ভাগই যায় না।

অবাক হয়ে বিদেশী অধ্যাপক বললেন- যায়না কী বলেন। এটাতো ভারী অন্যায়। কারণ- জনগণের ট্যাক্সের টাকা সরকার তাদের শিক্ষার পিছনে ইনভেস্ট করলো। আর ভোগ করলো অন্য একটা দেশ।

অধ্যাপক বললেন ওদের কে দোষ দিয়েও লাভ নেই। কারণ- দেশে এসে উচিত কথা বলতে চাইলে ঘটে পদে পদে দূর্গতি। যেমন- উচিত কথা বলায় সম্প্রতি দারণ এক দূর্গতির শিকার হয়েছেন ঢাবি’র অর্থনীতির এক অধ্যাপক। কোর্ট থেকে রায় পেয়েও শরণার্থীর মতো নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন- ক্লাস নিতে পারছেন না।

দেশপ্রেম মাটি, মমতা, মানুষ ইত্যাদি নিয়ে আমরা কত কথাই বলি। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি- জাতীয় সংগীত। সোনার বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা কত বেশি- তা একবার ইউরোপ আমেরিকার এ্যাম্বেসীর সামনে দেখা গেলেই বুঝা যায়। কাকডাকা ভোর থেকেই বিদেশের স্বপ্নের আশায় মানুষের লাইন।

দেশপ্রেম নিয় কত কথা আমি নিজেও তো কম বলিনা। কিন্তু বিদেশেই তো পড়ে আছি।

ইত্যাদির প্রতিবেদনটা দেখলাম। ডাঃ জেসন এবং মেরিণ্ডা দম্পত্তি আমাদের এক বিশাল লজ্জায় ফেলে দিলেন।

কেউ যদি গতকাল না দেখে থাকেন, দেখার আমন্ত্রণ রইলো। গ্রামকে ভালোবাসুন, গ্রামের মানুষকে ভালোবাসতে চেষ্টা করুন। এক আমেরিকার সিটিজেন ডাক্তারের পক্ষে যদি সম্ভব হয়, তবে আমি-আপনি নই কেন????

উল্লেখ্য, এনড্রিক বেকার নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। আজ আর তিনি বেঁচে নেই। তবে রয়েছে তার নাম রয়েছে তার স্মৃতি। রয়েছে জীবদ্দশায় তার করে তোলা একটি হাসপাতাল। কালিয়াকুরি নামের এই হাসপাতালটি গড়েছিলেন নিজ হাতে। দীর্ঘ ৩৫ বছর একজন ভিনদেশী হয়েও বাংলাদেশীদের চিকিৎসা দিয়ে গেছেন বিনামূল্যে। অথচ প্রার্থী হিসেবে পাননি কিছুই। মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছাটুকু করেছিলেন তাও দেখে যেতে পারেননি তিনি। পৃথিবীর ইতিহাসে তিনি হয়ে থাকবেন অমর। বাংলাদেশ মানুষ তার অবদান অস্বীকার করতে পারবে না কখনো