মানিব্যাগ দৈনান্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন একটি জিনিস। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্ব বহন করে থাকে। মানিব্যাগের ভিতর থেকে থাকে টাকা ছাড়াও প্রয়োজনীয় অনেক কিছু। আর এই মানি ব্যাগ হারিয়ে গেলেই পড়তে হয় মুশকিলে। তবে আজ যে ঘটনাটি বলবো তা হয়তো মনে হতে পারে অবিশ্বাস্য একটি বিষয়। কিন্তু এটি একটি সত্য ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডগলাসের বাসিন্দা পল গ্রিশাম। তিনি ১৯৪৮ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে আবহাওয়া প্রযুক্তিবিদ এবং পরে আবহাওয়ার পূর্বাভাসকারী হন গ্রিশাম।
১৯৬৭ সালে ’অপারেশন ডিপ ফ্রি’ নামে একটি মিশনের অংশ হিসেবে অ্যান্টার্কটিকায় পাঠানো হয় তাকে। সেসময় তার বয়স ছিল ত্রিশের ঘরে। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে একদিন নিজের মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর কেটে গেছে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়। আশ্চর্যজনকভাবে এতদিন পরে অনেকটা অক্ষত অবস্থাতেই মানিব্যাগটি ফির পান গ্রিশাম। খবর ব্রিটিশ দৈনিক দ্যা গার্ডিয়ানের।

খবরে বলা হয়, গ্রিশামের হারানো মানিব্যাগটিতে ছিল তার নৌবাহিনীর আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন ধরনের হামলার সময় কী করতে হবে তার একটি পকেট নির্দেশিকা, বিয়ার রেশন পাঞ্চ কার্ড, ট্যাক্স স্টেটমেন্ট এবং স্ত্রীর কাছে পাঠানো মানিঅর্ডারের রশিদ। ৫৩ বছর পর সেগুলো মোটামুটি অক্ষত অবস্থাতেই ফিরে পেয়েছেন এ বৃদ্ধ।

৯১ বছর বয়সী সাবেক এ নৌকর্মকর্তা জানান, আমাকে শনাক্ত করে মানিব্যাগটি পৌঁছানোর দীর্ঘ ধারাবাহিক এ প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ জড়িত ছিলেন।

২০১৪ সালে অ্যান্টার্কটিকার রস দ্বীপের ম্যাকমুর্ডো স্টেশনের একটি ভবন ভাঙার সময় খুঁজে পাওয়া যায় গ্রিশামের মানিব্যাগটি। তবে সেটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া বেশ কঠিন ছিল। এর জন্য অসংখ্য ইমেইল, ফেসবুকের মেসেজ আর চিঠি চালাচালি করেছেন এক দল তরুণ।

স্টিফেন ডিকাটো, তার মেয়ে সারা লিন্ডবার্গ এবং ব্রুস ম্যাকি স্পিরিট অব ’৪৫ নামে একটি দাতব্য সংস্থার সদস্য। তারা আগে এক নৌ কর্মকর্তার কাছে হারানো ব্রেসলেট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া, ডিকাটো একটি সংস্থায় কাজ করেন, যারা অ্যান্টার্কটিকায় গবেষণা করে থাকে।

ডিকাটোর সাবেক বস জর্জ ব্লেইসডেল ব্রেসলেট কাহিনী শুনে তাদের কাছে ম্যাকমুর্ডোর ভবনে পাওয়া দু’টি মানিব্যাগ তুলে দেন। লিন্ডবার্গ নৌ আবহাওয়া পরিষেবা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে পল গ্রিশামক খুঁজে বের করেন।

দ্বিতীয় মানিব্যাগের মালিকেরও সন্ধান বের করেছেন তারা। অবশ্য ওই ব্যক্তি ২০১৬ সালে মারা গেছেন। এ কারণে মানিব্যাগটি তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে এই পরিবারটি এত বছর পরে মানিব্যাগটি পেয়ে বেজায় খুশি তারা। বিশেষ করে এত বছর পর হারানো মানিব্যাগটাই তারা খুজে পাননি খুজে পেয়েছেন স্মৃতির অনেক কিছুই।