করোনার সময়ে বাংলাদেশে আটকে পড়েছিল হাজারো প্রবাসী বাঙালীরা। আর তাই নিয়ে হয়েছে সারা দেশে বেশ আলোচিত সব ঘটনা। তবে করোনার পরিস্থিতি হালকা হবার সাথে সাথে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ভিসা ছাড়তে শুরু করে। যার ফলে বাঙালীরা ফিরতে শুরু করে নিজ নিজ কর্ম স্থানে। তবে বন্ধ ছিল দক্ষিন কোরিয়ার ভিসা প্রদান কর্মকান্ড। যা নিয়ে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশীরা ছিল বেশ চিন্তায়। তবে সেই ’বাংলাদেশে আটকেপড়া প্রবাসীদের আজ যেন ঈদের দিন। ’ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ পরিস্থিতি জানার জন্য যখনই রাষ্ট্রদূতকে ই-মেইল করতাম, তখনই তিনি এর জবাব দিয়ে আশ্বস্ত করতেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়েও বলতেন। ধন্যবাদ প্রিয় অভিভাবক।’
আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন, দেশে ছুটিতে গিয়ে আটকেপড়া এক বাংলাদেশি। তিনি বলেন, ’ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সর্বপ্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানায়। এরপর দূতাবাসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম আমরা হাজারও প্রবাসী বাংলাদেশি।’

বাংলাদেশের ওপর ’ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশিরা এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমে (ইপিএস) ভিসার জন্য আবেদন জমা দিতে পারবে। তাই সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কোরিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস গতকাল এক কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে অবহিত করে।

জানা গেছে খুব শিঘ্রই শুরু হয়ে যাবে মুল প্রক্রিয়া। সবাই আস্তে আস্তে ফিরতে পারবে দেশটিতে যে যার কর্মস্থলে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি হতে পুনরায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরিয়া গমনেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিকরা ঢাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনটি নিশ্চিত করা হয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজেও।