একটি দেশের অর্থনিতির চাকা সচল রাখতে সব থেকে বড় ভুমিকা পালন করে থাকে ঐ দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সর্বোপরি রেল ব্যবস্থা। উন্নত দেশগুলোর অর্থনিতির লাইফলাইন হলো সে দেশের রেল ব্যবস্থা।উন্নত দেশগুলো যখন রেল নিয়ে গবেষনা করে দিন দিন তার গতি বাড়াচ্ছে তখন আমাদের দেশের রেল ব্যবস্থা যেন আরো মুর্ছা যাচ্ছে।প্রতিবছর রেলের খাতে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ কোটি টাকার খেসারত,যা সরকারকে পিছিয়ে দিচ্ছে সামনে এগুতে।প্রতিবছর এত লোকসানের পর মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠে ক্যনো এত লোকসান।
এ বিষয় নিয়ে সম্প্রতি নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন একজন সচেতন নাগরীক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া তার এই মতামত হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠদের উদ্দেশ্য:-



রেল সেতু কি এমনি এমনি ভেঙে পড়লো? নাকি অন্য কোনো ব্যাপার? বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে আমি হতাশ। রেলে ঢিল ছুড়ে মারে কারা? কারা ঢিল মারায়? এসবের কি সুরাহা হবে না? প্রতিবছর রেলে লোকসান। কিন্তু যাত্রী তো ঠেলে ফেলা যায় না। এমনকি ছাদের কোণাও ফাঁকা থাকে না। যা দেখে সারাবিশ্বের লোক হাসে। তবুও লোকসান আসে কিসে? কোনো সরকারের আমলেই রেল ঠিকমতো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রেলের দুর্নীতি এবং রেলে দুর্নীতি করানোর চক্র খুবই সক্রিয়।

রেলের স্থান কোনোদিন বাস নিতে পারবে না। বাস পরিবহন সেই নিরাপত্তা দিতে এবং খরচ কমাতেও পারবে না, তবু জোর করে বাসে চড়িয়ে আখের গোছাচ্ছে বাস পরিবহনের লোকেরা। নানা সময়ে রেলকে দমিয়ে রাখতে তাদের দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে। অথচ প্রতিবেশী রাষ্ট্রে গিয়ে দেখি রেলই হলো সেদেশের লাইফলাইন। কি দূরন্ত গতিতে বৈদ্যুতিক রেলগুলো ছুটে চলছে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে এবং কম খরচে উন্নত পরিবহন সেবা দিচ্ছে। রয়েছে মেট্রো। শত কিলোমিটার দূর থেকেও রোজ মানুষ কর্মক্ষেত্রে এসে রোজই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে।

শহরের উপর চাপ পড়ছে কম। যেখানে আমাদের ঢাকায় কোনো মানুষ কাজ করতে ঢুকলে আর ঈদের সময় ছাড়া ঘরেই ফেরে না। তখন কি তথৈবচ অবস্থা! আরও উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই। জাপান, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, চিন প্রভৃতি দেশে তো সুপার ফাস্ট রেল ব্যবস্থা। বিমানের গতিতে রেল চলে। তারা প্রতিনিয়ত রেলের উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সেসব দেশেও তো বাস পরিবহন আছে। কিন্তু এতোটা আদিখ্যেতা এবং অর্থ লোভ নেই। শুধু রেল বলি কেন, রাষ্ট্রের কিছু খাতকে প্রতিষ্ঠিত করা গেলো না এতোদিনেও। যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এসব মৌলিক খাতগুলো সুদৃঢ় না করলে চলবে কি করে? সিলেট থেকে ঢাকায় আসার পথে রাতে একটি ট্রেন ব্রিজ ভেঙে পড়ে গেলো। এতোটা চিন্তা হচ্ছে, কি বলবো! যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রেলই আমার সবচেয়ে প্রিয়। রেলের রাজকীয় একটা বৈশিষ্ট্য আছে। রাজকীয় এই পরিবহনের এমন ভেঙে পড়া অবস্থা এবং মানুষের হতাহতের চিত্র দেখলে মনের গভীর থেকে নিঃস্ব অনুভব করি।


কম খরচে অধিক নিরাপদে যাতায়াতের এই মাধ্যমটি স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও খোঁড়াচ্ছে। সাধারন মানুষের এটি এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে কবে ফিরবে রেলের সু’দিন।উন্নত দেশ গুলো মত কবে আমরা রেলে ছুটবো বিমানের গতি নিয়ে।তবে আশার খবর এই যে বর্তমান সরকার রেলের জন্য নানবিধ উদ্যোগ নিয়েছে।আশা করা যায় আমরাও একদিন রেলে উন্নতি করবো উন্নত হবো অন্যান্য দেশের মত।