শোস্যাল মিডিয়া মানুষকে দিন দিন কতটা নিচে নামিয়ে দিচ্ছে মানুষ দিন দিন কতটা মনুষত্ব্যহীন পড়ছে তার জনজ্যান্ত উদাহারন আমাদের সমাজের সাম্প্রতিক ঘটনা সমুহ গুলো দেখলে বোঝা যায়। মানুষ এখন কর্মে নয় কথায় বিশ্বাসী। যাই ঘটুক না কেন তার প্রসংসা বা প্রতিবাদের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। আমরা যেন ভার্চুয়াল জগতের অংশ হয়ে গেছি। ভার্চুয়াল জগত ছাড়া যে কিছুই বুঝি না।
সম্প্রতি বরগুনার রিফাতের হত্যাকান্ডের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে শত শত মানুষ দাড়িয়ে আছে আর কেউ একজন ভিডিও করছে কিন্তু কেউই তাকে বা তার স্ত্রীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না যদি তারা মনুষত্ব্যহ বিসর্জন না দিতো তবে মানবতার খাতিরে এগিয়ে আসতো এবং ঘটনাটাও অন্যরকম হতে পারতো।
এ বিষয়টি নাড়া দেয় আমাদের সমাজের সকলকে। এবিষয় নিয়ে ছাত্রলীগের নেত্রী জারিন দিয়াও তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেছে।তার মতামতটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হলো:-

আমরা মানুষ দিনকে দিন পশুর মতো হয়ে যাচ্ছি। ফেসবুকের তালে তালে আমরা নাচি এখন। নিজেকে ভাইরাল করার জন্যে কত কিছুই না এখন করতে হয়। মানে ফেসবুকের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন চলতে হয় আরকি। এইখানে মানুষকে ইচ্ছামতো সম্মানহানি করা যায় আবার অনেক উপরেও তোলা যায়। এখন একটা কিছু হলে আগে ফেসবুককে জানাই আমরা। এই ধরেন কোথাও আগুন লাগলে আমরা লাইভে আসি। কিন্তু নিভাতে যেতে পারি না। আবার রাস্তায় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে আমরা ছবি, সেলফি তুলতে ব্যস্ত। সবার কাছে দোয়া চাই; আল্লাহ লোকটাকে বাঁচিয়ে দাও। কিন্তু নিজে গিয়ে সাহায্য করতে পারি না। রাস্তায় কেউ প্রকাশ্যে খুন করলে সেটা ভিডিও করতে পারি, তামাশা দেখতে পারি। কিন্তু গিয়ে বাঁচাতে পারি না। এই ফেসবুক আমাদের মনুষ্যত্বকে দিনে দিনে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমরা নিজেও সেটা জানি না। ভয় হয়। হয়তো আমিও একদিন এমন জায়গায় থাকবো আর আমাকে নিয়েও এইভাবে ভিডিও, ছবি তুলতে সবাই ব্যস্ত থাকবে ভাইরাল করার জন্যে।
কিন্তু কেউ বাচাঁতে আসবে না...