সারাদিন ব্যাপী পদ্মাসেতু নির্মাণ বিষয়ে একটি গুজবে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো।পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির টাইমলাইনে স্ট্যাটাস পোস্ট করতে দেখা গেছে। এতে অনেকেই ঘাবড়ে গেছেন।শুধু তাই নয় এ বিষয়ে ম্যাসেঞ্জারের ইনবক্স করে একে অপরকে সতর্ক করেছেন নেটিজেনদের কেউ কেউ। বেশিরভাগ মানুষই না বুঝে-শুনে এরকম কুসংস্কারে গা ভাসিয়েছেন। দিনভর বিষয়টি নেট দুনিয়ায় অনেকটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়টিকে গুজব বলে সকলকে অবহিত করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত ব্যাক্ত করেছেন টেলিভিশনের টক শো অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় মুখ মোহাম্মদ এ আরাফাত পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার এই লেখনি হুবহু তুলে ধরা হলো:-
পদ্মাসেতু মানে শেখ হাসিনা সরকারের ৩ টি সাফল্য : ১. দেশি-বিদেশি মিথ্যা অপপ্রচারকারীদের দুর্নীতি কেন্দ্রিক সকল অপপ্রচারের দাতভাঙা জবাব দেয়া। ২. সাম্রাজ্যবাদীদের সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সসন্মানে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো। ৩. বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা প্রমাণ করা। শেখ হাসিনা সরকার তথা বাংলাদেশের এই সফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে খালেদা-ফখরুলসহ বিএনপি-জামায়াতের নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আকথা-কুকথা বলেছেন, কিন্তু জনগণের কাছে কোনো গ্রহনযোগ্যতা পায়নি। আজকে যখন দেশবিরোধীদের সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে পদ্মাসেতু নির্মাণ সমাপ্তির পথে, ঠিক তখনই পাকি প্রেতাত্মারা হাজির করেছে আরেক জঘন্য অপপ্রচার।

পাকি প্রেতাত্মাদের নতুন অপপ্রচার, ’পদ্মাসেতু বানাতে শিশুদের ’মাথা’ লাগে’। বাংলাদেশের সাফল্য এদের পীড়া দেয়, বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া এরা সহ্য করতে পারে না, তাই তো তাদের এতো বেদনা। মিথ্যা অপপ্রচার করে বাঙালিকে বিভ্রান্ত করে তারা বাঙালিকে দিয়ে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারাবে, যেমনটা করেছিলো অতীতেও। কিন্তু এই পাকি প্রেতাত্মারা ভুলে গেছে, বাঙালি এখন অনেক সজাগ। বাঙালিকে বোকা বানানো এতো সহজ নয়।
একঝাঁক শেখ হাসিনার সৈনিক আছে, যারা সর্বদাই সজাগ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জিবীত হয়ে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশি-বিদেশি, জামাতি-বামাতি সকল মিথ্যা অপপ্রচার তথা প্রোপাগান্ডার জবাব দেয়ার জন্য। মিথ্যা অপপ্রচার করে বাঙালিকে আর বোকা বানাতে দেয়া হবে না। এটাই আমাদের অঙ্গীকার! ফেসবুক থেকে


উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুর জন্য মানুষের রক্ত বা মাথা লাগবে এমন গুজব বা অপপ্রচার এটাই প্রথম হয়নি। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে একইরকম গুজব ছড়িয়েছিল রাজবাড়ী জেলায়।সে সময় রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ১৫ দিনের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পদ্মা সেতুর জন্য রক্ত লাগবে বলে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে বলে অপপ্রচার চালানো হয় তখন।