মোঃ নজরুল ইসলাম যিনি আসিফ নজরুল নামে সমধিক পরিচিত।আসিফ নজরুল হচ্ছেন এদেশের একজন লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট, ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। টিভি টকশো ও তার কলামে সাহসী রাজনীতি বিশ্লেষণের জন্য তিনি বিশেষভাবে খ্যাত। তিনি দশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সমসাময়িক নানা দিক নিয়ে কথা বলে থাকেন। গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) তার নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

পন্ডিতের চেতনা দর্শন

’কয়েকদিন আগে এক পন্ডিতের কলাম পড়ছিলাম। তিনি লিখেছেন আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪৮ ভাগ ভোট পেয়েছিল, বিএনপি ৩৩ ভাগ। এর মানে এই ৪৮ ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমর্থক আর ৩৩ ভাগ বিরোধী কিনা এনিয়ে তিনি খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পন্ডিতের ভোটের অংকের পদ্ধতি ছিল ভুল। অংকে ভুল হতে পারে। কিন্তু ভাবনায় এতো ভুল হয় কিভাবে? উনি এ তথ্য কোথায় পেলেন যে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেয়ার সময় কে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, কে না শুধুমাত্র এটা বিবেচনায় রেখে ভোট দেয়? বা বাংলাদেশের সব মানুষ আওয়ামী লীগকে চেতনাময় আর বিএনপিকে চেতনাহীন ভাবে? তাহলে তার এই দুশ্চিন্তা কেন হবে যে বিএনপির ভোটররা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী?

বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান আর গনপরিষদ বিতর্ক অনুসারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে প্রকৃত গনতন্ত্র, সম্পদের সুষম বন্টন, কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি, অসাম্প্রদায়িকতা আর জাতীয়তাবোধ। কাজেই পন্ডিতের মতো মানুষদের এটা বোঝা উচিত যে – পুরোপুরি ভূয়া নির্বাচন, ভয়াবহ দূর্নীতি, কৃষককে ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করা, সংখ্যালঘুদের জমি দখল আর ভারতের কাছে স্বার্থ বিকিয়ে দেয়ার প্রতিটি কাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সুষ্পস্ট লংঘন। এখন সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ যদি হেরে যায় তাহলে এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরাজয় হবে না, হবে বিজয়। চোর, খারাপ ও অত্যাচারী শাসক (সেটা বিএনপি হোক, আওয়ামী লীগ হোক) যখনি হারে তখনি তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জয়।



পন্ডিতকে নিয়ে এতো কিছু লিখতাম না। লিখলাম কারণ তার মতো লোকের এসব ভ্রান্ত বয়ান কিছু মানুষকে হলেও প্রভাবিত করে, শাসকগোষ্ঠীর অনাচারের বৈধতা প্রদান করে এবং একচোখা মানুষকে কুতর্ক করার মালমশলা প্রদান করে।

তিনি নিজে একসময় তীব্র আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধও করেছেন। এখন যদি তার মতো মানুষ মনে করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানে হচ্ছে অন্ধভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়া তাহলে তা খুব হতাশাজনক।’

উল্লেখ্য, আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সোয়াস (স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ) ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন।পরবর্তীতে জার্মানীর বন শহরের ইনভাইরনমেন্টাল ল’ সেন্টার থেকে তিনি পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে একজন কমনওয়েলথ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।