সময়টা ২০১৮ সালের মার্চ মাস। ঢাকা সিটিতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মশার উপদ্রব ছড়ানো ঠেকাতে গ্রহন করা হয় পূর্ব পরিকল্পনা। আর রাজধানি জুড়ে চলা এই পরিকল্পনার নাম দেয়া হয় "স্পেশাল ক্রাশ প্রোগ্রাম"। এর মধ্যে হঠাৎই একদিন ঢাকা সিটির উত্তর কর্পোরেশন থেকে ফিল্মি স্টাইলে বেড়িয়ে আসতে দেখা যায় দুটি সরকারি গাড়ি যার মধ্যে কামান দাগা স্টাইলে দুদিকে ফগার মেশিন দিয়ে চলছে মশা তাড়াবার চেষ্টা। আর যিনি এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি আর কেউ নন তৎকালিন ঢাকা উত্তর সিটির প্যানেল মেয়র সারোয়ার ডেইজী। আর এই হাস্যকর বিষয়টা নিয়ে শুরু হয় সারা দেশে নানা ধরনের ট্রল। এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে চলে থাকে নানা ধরনের সমালচনা। সম্প্রতি ডেইজিকে নিয়ে সকলের ট্রল করা বিষয়টাকে নেতিবাচক ভাবে দেখছেন বাপ্পাদিত্য বসু। পাঠকদের উদ্দশ্যে তার লেখনিটি তুলে ধরা হলো:-
নির্বাচনে গান বাজিয়েছেন সব প্রার্থীই। তার অনেকগুলোই উদ্ভট হয়েছে। আপনারা তাদের কাউকে নিয়ে ট্রল করেনননি। ট্রল করেছেন কেবল ডেইজী আপাকে নিয়ে, কেন? জানেন কেন? কারণ ডেইজী আপা ছিলেন সাধারণ ওয়ার্ডে পুরুষদের বিরুদ্ধে নারী প্রার্থী। তিনি আগেরবার নারী সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। এবারে সাধারণ আসনের প্রার্থী ছিলেন। এটা পুরুষতন্ত্রে ব্যাপকভাবে লে গেছে। ট্রল করেছেন নারীরাও। ওই নারীদের ভেতর সুপ্ত পুরুষতন্ত্রের পূজায় আঘাত লেগেছে। ডেইজী আপা এবারও সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হলে আপনাদের লাগতো না, এতোটা আমি নিশ্চিত। ডেইজী আপা গত পাঁচ বছর কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র ছিলেন। সে সময় তিনি প্রচুর কাজ করেছেন। কিন্তু একটা হাস্যকর কাজ করেছিলেন। তিনি গা করে কামান স্টাইলে মশা মারার ফগার মেশিন থেকে ওষুধ ছিটিয়েলেন। আচ্ছা বলুন তো, ডেইজী আপা একাই শুধু হাস্যকর কাজ করেছেন? না। আরও অনেকেই করেছেন, ক্ষমতাসীনদের অনেকেই তা করেন। কতোজন কাউন্সিলরের নাম আপনারা একনাগাড়ে বলতে পারবেন? কিন্তু ডেইজী আপার নাম ঢাকা উত্তর-দক্ষিণের গ-ী পেরিয়ে সারাদেশে জানে সবাই। ডেইজী আপার ফগার মেশিন নিয়ে হাস্যকর কাজটা দেখেছেন তার ফুটপাথ দখলমুক্ত করা দেখেছেন আপনারা?


ডেইজী আপা লড়াই করেছেন মোহাম্মদপুরে। আটকেপড়া পাকিস্তানিদের এলাকা। মাদকের আখড়া। যে সেন্টু জিতেছে, সে সেন্টু কতোখানি নোংরা মানুষ তা আমরা জানি। জানেন মোহাম্মদপুরের ৩১নং ওয়ার্ডের মানুষেরা। কিন্তু গণতন্ত্রের ব্যর্থতা হলো পপুলার ভোটে কখনো কখনো শয়তানও জিতে যায়। এ দেশে পপুলার ভোটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাদেক হোসেন খোকার কাছে শেখ হাসিনা হেরেছেন। রাজাকারের কাছে মুক্তযোদ্ধারাও হেরেছেন অনেকবার। আজ ডেইজী আপা হেরেও আপনাদের ট্রল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। এমন সময়কালে সেন্টুর মতো বাজে লোকের সাঙ্গপাঙ্গরা যখন তাকে মেরেছে সেন্টুর উপস্থিতিতে, এমন নারী ডেইজী আপার পরনের কাপড় ছিঁড়ে দিয়েছে, তখনো আপনারা তাকে নিয়ে ট্রল করেছেন। একজন নারীর পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলা তো অনেক পরের বিষয়, তার পরনের কাপড়ে হাত দিলেও সে হাত কেটে দেওয়া উচিত, তা সে যেই হোক না কেন। আপনারা তখনো সেন্টুকে নিন্দা করার বদলে ক্রমাগত ট্রল করে গেছেন ডেইজী আপাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ডেইজী আপাকে চিনি না, তার সঙ্গে পরিচয় নেই। কিন্তু ভালো লেগেছে যখন সাধারণ ওয়ার্ডে পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তার দল তাকে মনোনীত করেছে। ভালো লেগেছে তার লড়াই। ডেইজী সারওয়ার, আপনি অনেক সালাম দিয়েছেন। এবার আপনি আমার সালাম নিন। লড়ে যান। এবার হয়, আগামীবার নিশ্চয়ই হবে।


প্রসঙ্গত, গত পহেলা ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে ৩১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন লড়েন ডেইজি। যিনি এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি ডেইজি। তার নিকটতম প্রার্থি ঢাকার ৩১ নং ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচনের দিন তাকে হেনস্থা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।