বাংলাদেশে রাজনিতীতে আওয়ামীলীগ একটি বড় নাম। এই নামটির সাথে জড়িয়ে আছে দেশের সব থেকে প্রাচীন দলের অনেক ইতিহাস আর ঐতিহ্য। আর সেই সাথে এই দলটির সাথে গাথা রয়েছে হাজারো ছোট বড় নেতা কর্মীদের অনেক ইতিহাস। তার মধ্যেও যেন অন্যতম ও প্রধানমন্ত্রীর একান্তভাজন ছিলেন আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। যিনি দলের জন্য করেছেন অনেক। বিনিময়ে বেশিই পেয়েছেন মামলা আর নি\’/র্যা\’/ত\’/নে\’/র আঘাত। আর তাই সম্প্রতি অনেকটা রাগ আর ক্ষোভ থেকেই লিখেছেন অনেক কথা। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো:-
২০০৭ সালের ১৬ই জুলাই ১/১১\’র সরকার তথাকথিত চাঁদাবাজর ২টি মামলায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে। তারপর একে একে ১৬ টি দুর্নীতির মামলা দেয়া হয় তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীবৃন্দ যারা নেত্রীর পক্ষে সবসময় শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের সবাইকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে তালিকা প্রকাশ করে দুর্নীতির মামলা করা হয়। সে তালিকায় নেত্রীর ব্যক্তিগত অনুবিভাগে কাজ করাদের মধ্যে র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং আমি আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীর (নাসিম) নামও ছিল। আমাদের বিরুদ্ধেও সস্ত্রীক মামলা দেয়া হয়।

নেত্রীর নির্দেশে তখন আমিসহ যারা পেরেছি দেশত্যাগ করেছি এবং বাকিরা কারাবরণ করেছেন। আমার স্ত্রী সপ্তম শ্রেণির কন্যাকে নিয়ে যখন যৌথ বাহিনীর নি\’/র্যা\’/ত\’\\/ন সহ্য করেছে, মামলার জামিনের জন্য হাই কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরেছে তখন কোথায় ছিলেন আজকের কথিত মহারথিরা। নেত্রীর জন্য মায়াকান্না কাঁদেন আর আমাদের ১/১১ র মামলা নিয়ে পরিহাস করেন? এত ঔদ্ধত্য কোথায় পান? ক্ষমতার চেয়ার থেকে? ওটা ক্ষণস্থায়ী। দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া আন্দোলন সংগ্রামের কর্মীদের ভালবাসা থেকে অর্জিত রাজপথের ক্ষমতার তুলনায় আপনাদের ক্ষমতার চেয়ারে থাকা ক্ষমতা নস্যি।

দেশে থাকা অবস্থায় এবং বিদেশে থেকেও নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি এবং সফল হয়েছি যার ধারাবাহিকতায় আজকের সরকার। ৮ নভেম্বর ২০০৮ নেত্রী ইউএসএ থেকে ঢাকা প্রত্যাবর্তনের পর ৯ নভেম্বর আমি এবং জাহাঙ্গীর কবির নানক ভাই আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে আগরতলা থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করি এবং নেত্রীর সাথে থেকে নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। বাকিরা সবাই আগে পড়ে দেশে আসেন। ১/১১ সরকারের দেয়া মামলাকে আমরা আমাদের রাজনৈতিক জীবনের অলংকার মনে করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার ললাটেও এমন ১৬ টা অলংকার ছিল।

জননেত্রী শেখ হাসিনার ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে প্রতিটি মুহুর্ত তার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল থেকে আনুগত্যের পরীক্ষায় আমরা শতভাগ উত্তীর্ণ হয়েছি এবং আমৃ\’/ত্যু তাইই থাকবো ইনশাল্লাহ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করে তাঁর থেকে \’কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা\’ বলার শিক্ষা পেয়েছি। কারো ব্যর্থতার জন্য নেত্রীর অর্জন ম্লান হলে আমাদের গায়ে লাগে। এমন হতে থাকলে আমাদের মুখ এবং কলম অবিরতই চলবে সামনে যেইই থাকুক না কেন। আমাদের মত লক্ষ লক্ষ মুজিব সৈনিকের রক্ত এবং ঘামের ফলশ্রুতিই আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার।

ছবিতে ১৯৮১ থেকে ২০১৮, ক্ষমতাশীন অবস্থায় শুধু ২০১৮ র নির্বাচনে জেতার পরে ফুল দেয়ার ছবি। বাকিগুলো ক্ষমতার বাইরে।


বাংলাদেশের রাজনিতীতে এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে। বিশেষ করে বর্তমানে দেশের রাজনিতীতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের থেকে নতুন নতুন সব নেতা কর্মীরা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। যার ফলে এসব নেতা কর্মিরা দলের কাছ থেকে হয়ে যাচ্ছে বিমুখ। এবং জড়িয়ে পড়ছে অন্যদের সাথে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের মত বড় একটি দলের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা অনেক বেশি ঘটে থাকে।