বাংলাদেশে এখন দুটি বিষয় নিয়ে চলছে নানা ধরনের আলোচনা সমালোচনা। পরিমনির সাথে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা সেই সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একজন ইসলামীক বক্তার নিখোজ হয়ে যাওয়া।এ দুটি বিষয় নিয়ে দিন দিন জল ঘোলা হচ্ছেই। এ দিকে এর বিচার পেতে যেয়েও বেশ বেগ হচ্ছে। সম্প্রতি এসব নিয়ে আবারো নিজের মতবাদ ব্যক্ত করেছেন।জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. তুহিন মালিক। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-


প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন করাটা যেন বিচার চাওয়া ও পাওয়ার পূর্বশর্ত না হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় নায়িকা যখন চারদিন ধরে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে বলেন ’আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি। থানা, শিল্পী সমিতি, সবখানে গেছি। কিছু হয়নি।’ শেষপর্যন্ত যখন বাধ্য হয়েই ফেসবুক স্টেটাসে প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন করে বিচার চাইলেন। তারপর দ্রুতগতিতে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো। দেশের কতজন নাগরিকের এভাবে প্রধানমন্ত্রীকে মা ডেকে বিচার চাওয়ার সুযোগ আছে? প্রধানমন্ত্রীর কাছে এভাবে মা ডাকটি পৌঁছানার সুযোগই বা কতজনের আছে?
তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রীও গুমের শিকার স্বামীকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীকে মা ডেকে আকুতি জানিয়েছেন। অথচ গুমের পাঁচদিন পরও সরকারের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া নাই! ভিপি নূরও প্রধানমন্ত্রীকে মা ডেকে সম্বোধন করেছিল। তারপরও কি নূর রক্ষা পেয়েছে? আলেমরাও সমাবেশ ডেকে প্রধানমন্ত্রীকে কওমী জননী উপাধি দিয়েছিল। এখন তারা জেল-রিমান্ডে।
প্রধানমন্ত্রীকে মা বলে না ডাকলেও প্রতিটা নাগরিকের সমানভাবে বিচার চাওয়া ও পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার রক্ষার দায়িত্ব খোদ প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। বিচারের সমঅধিকার যেন প্রধানমন্ত্রীকে মা ডাকের মাঝে ক্ষুন্ন না হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান। কিন্তু জনগণের বিচার চাওয়া ও বিচার প্রাপ্তির জন্য সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কখনই রাষ্ট্রের চাইতে, সংবিধানের চাইতে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের চাইতে বড় নন।

প্রসঙ্গত, পরিমনির ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন সব অভিযুক্তরা। তবে ত্ব-হার ঘটনার এখনো কোন ধরনের কিনারা করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরা। তবে এ নিয়ে তারা হয়েছেন স্বোচ্ছার। জানা গেছে এ বিষয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।