ছোট বেলাতে একটি কবিতা সকলেই হয়তো পড়েছেন। আর সেটি হলো, শৈবাল আর শিশির নিয়ে। কবিতার লাইন গুলো ছিল এমন, শৈবাল দিঘীরে বলে উচ্চ করে শীর, লিখে রেখো এক ফোটা দিলেম শিশীর। ছোট বেলা থেকে বড় বেলা সবখানেই এই কবিতাটির চর্চা হয়েছে ব্যাপক। তবে এ নিয়েই একটি লেখনি লিখেছেন শান্তা আনোয়ার।যেখানে তিনি প্রমান করতে চেয়েছেন শৈবালের গুরুত্ব।পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-
ছোটবেলায় যখন আমি জেনেছি কীভাবে গাছ আমাদের জন্য অক্সিজেন তৈরি করে। তখন আমি বাতাসে সেই অক্সিজেন খুঁজতাম। গাছের পাতায় হাত দিয়ে দেখতাম আমাদের নিঃশ্বাসের মতো গাছের শ্বাস দিয়ে অক্সিজেন বের হচ্ছে কিনা? আমার মনের চোখে, আমি দেখতাম এক অরণ্য প্লাবিত করা বৃষ্টিপাত থেকে গাছের নিঃশ্বাস প্রশ্বাস চলছে। আর সেই নিঃশ্বাস প্রশ্বাস থেকে সমুদ্রের পানির মতো অক্সিজেনের বিশাল ঢেউ উঠছে।



অথচ, বিশ্বের বৃহত্তম রেইনফরেস্ট আমাজন বিশ্বের ছয় শতাংশ অক্সিজেন উৎপাদন করে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বাকী অক্সিজেন কোথায় থেকে আসে?

অবাক বিষয় হচ্ছে, পৃথিবীর বেশিরভাগ অক্সিজেন গাছ থেকে আসে না। ৫০-৮০% অক্সিজেন আসে মূলত সমুদ্র শৈবাল থেকে।

যেহেতু পৃথিবীর প্রায় ৭১ শতাংশ জলভূমি, তাই এটি যুক্তিসঙ্গত যে সূর্য জমির চেয়ে পানিতে বেশি কিরণ ছড়ায়। সমুদ্রের উপরের ২০০ মিটার বা প্রায় ৬৫০ ফুটকে বলে এপিপিলেজিক অঞ্চল।‌ ’এপি’ যার অর্থ ’উপরের’, এবং পেলেজিক, যার অর্থ ’সমুদ্রের পৃষ্ঠ’। সমুদ্রের এই শীর্ষ অঞ্চলটি বেশিরভাগ সূর্যের আলোকে শোষণ করে- এবং ওই অঞ্চলে থাকা শৈবাল, এককোষী উদ্ভিদকে সালোক সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

সমুদ্রের এই শেত্তলাগুলো প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন করে, কারণ সমুদ্রের অনেক অংশ জুড়ে এর প্রচুর পরিমাণে এই শৈবাল ছড়িয়ে থাকে। সমুদ্র শৈবাল অবশ্য সমুদ্রের প্রাণীর এক বিরাট অংশের জীবনের প্রাথমিক খাদ্য উৎস হিসেবেও কাজ করে।

অবশ্য এই শৈবাল সমুহের একটা স্টার অক্সিজেন উৎপাদক আছে প্রকলোরোক্কাস নামে এককোষী শৈবাল, যা বিশ্বের প্রায় ২০% অক্সিজেন তৈরি করে। তার মানে আমাজন রেইন ফরেস্টের উৎপাদিত এক্সিজেনের তিন গুণ অক্সিজেন প্রকলোরোক্কাস একাই তৈরি করে।

তবে একটা কথা বলে রাখা ভালো সমুদ্র শৈবালের উত্পাদিত এই অক্সিজেনের উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি আমাদের বায়ুমণ্ডলে যায় না, তবে মহাসাগরের পানিতে শোষিত হয়ে থাকে। এই পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন থেকেই মাছেরা নিঃশ্বাস নেয়।

শৈবাল দীঘিকে নাকি এক ফোটা শিশির দেওয়ার জন্য মাথা উচু করে গর্ব করে বলেছিলো, লিখে রাখতে। আহারে আমাদের কবিকুল। এই শৈবালের দয়ায় যে তার নিঃশ্বাসের ৮০% ভাগ অক্সিজেন আসতো সেটা যদি আমাদের কবি সেই সময়ে জানতেন তাহলে কি তিনি সেই শৈবালকে এতো তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতেন?

পরিশেষে এই লেখক আরো লিখেছেন সমাজের বর্তমান অবস্থা। এই লেখনির মধ্যে দিয়ে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন সমাজে কিভাবে একে অপরকে ছোট করার প্রবণতা এখনো বেশ বিদ্যমান।