সদ্য শেষ হওয়া বছরের অর্জন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে গেলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।
রোববার (৮ জানুয়ারি) ইস্কাটনের প্রবাসীকল্যাণ ভবনে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রীর লিখিত বক্তব্যের পরে অভিবাসন খরচ না কমার কারণ সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই উঠে চলে যান নুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহারও প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য সরকার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তিন থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত লাগছে‍। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কী করছে?
বরাবরের মত মন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভিসা বাণিজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যসত্বভোগী এবং মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক একটি চক্র জাড়িত রয়েছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো চক্রের কথা আমার জানা নেই। কারো কাছ থেকে এ বিষেয়ে লিখিত অভিযোগও আমরা পাইনি।’
এ পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় কোন রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠাচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী আর কোনো উত্তর না দিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকেই বের হয়ে যান।
এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার, অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাসসহ অন্য নিশ্চুপ ছিলেন।
পরে প্রবাসী কল্যাণ সচিবের কাছেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলবো সবাই এই টাকায় পাঠাচ্ছে। তবে এটা ঠিক দুই প্রান্তেই মধ্যসত্বভোগী আছে। তাদের কারণেই খরচ বাড়ছে। আমরা তাদের তালিকা করছি।’
এরআগে ২০১৬ সালের অর্জন নিয়ে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, নানামুখী কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাত লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বৃদ্ধির হার ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, ২০১৬ সালে ওমানে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠানো হয়েছে। এরপর গেছে সৌদি আরবে।
প্রচলিত শ্রম বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজারের অনুসন্ধান চলছে জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বৈধ পথে কর্মীর কর্মসংস্থান সুযোগ হওয়াতে অবৈধ পথে কর্মী যাওয়া এখন বন্ধ হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম উইংয়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ করা হয়েছে’।

News Page Below Ad