গত সপ্তাহের বুধবার সন্ধ্যে ৭ টার দিকে একটি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে দুদক পরিচালক ইউসুফের বাসায়। এমসয় তিনি বাসায় উপস্থিত ছিলেনা। ভায়বহ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মারত্মক ভাবে যখন হন হন তার স্ত্রী তানিয়া। এ ঘটনার পর পরই ঐদিন সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে সিএমএইচ এ স্থানান্তর করার কথা জানালে তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে সিএমএইচ এ ভর্তি করানো হয়। এর পর পরই তিনি সেখানে চকিৎসারত অবস্থায় মারা যান।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় ৬ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ৬ তলা ওই ভবনের দোতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বাসার ভেতর থেকে ওই নারীকে দগ্ধ অবস্থায় বের করে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইউসুফের স্ত্রী তানিয়া।

সেই প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইউসুফ। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:-

’বলতাম, আমি হারতে শিখিনি। তুমি হাসতে। এভাবে হারিয়ে দেবে, বুঝিনি।’

ইউসুফের স্ট্যাটাসের কমেন্ট করে আমির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, তোমাকে হারিয়ে দেয়নি। তোমাকে আরো কঠিন পরীক্ষায় বসিয়েছে। তানিয়া জানে, এই পরীক্ষায়ও তুমি হারবে না। ইউসুফ, কারো মৃত্যু মানে চিরস্থায়ীভাবে হারিয়ে যাওয়া নয়; সাময়িক বিচ্ছেদ কেবল। কিছুদিন পরেই আবার আজীবনের জন্য তোমরা জুঁটিবদ্ধ হবে। জানি তোমার চলার পথ এখন আরো কণ্টকাকীর্ণ; কুসুমাস্তীর্ণ নয়। কিন্তু তোমাকে চিনি বলে এও জানি তুমি হারবে না এই পথপরিক্রমায়। কারণ, তুমি ফিনিক্স পাখি। তুমি আবার উঠবে, দাঁড়াবে, দৌড়াবে। প্রাণখুলে হাসবে। লাভ ফর ইউ এন্ড কিডজ!

সুমেন দাস নামে একজন লিখেছেন, মিয়াঁ ভাই, আপনাকে সান্ত্ব্বনা দেওয়ার সাহস আমার নাই।চোখের জল ফেলা ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না আপনার জন্য। জানি এই হারানোর বেদনা কত কঠিন।তবে, আপনার উপর এখন অনেক দায়িত্ব। বাচ্চাদের মানুষ করতে হবে। একদম আপনার মত করে……… ভালবাসা নিবেন মিয়াঁভাই।

রায়হান কবির নামে একজন লিখেছেন, আপনাকে কখনও দেখিনি সামনা-সামনি,পরিচয়ও নেই।শুধু ফেসবুক আর মিডিয়ায় দেখি।তবু মনে হয় আপনি আমার কতদিনের চেনা,কত কাছের লোক! আর সেজন্যেই আপনাকে কখনও স্যার বলে সম্বোধন করিনি,ভাই-ই বলেছি।আপনার এই দু:সময়ে পাশে গিয়ে স্বশরীরে দাঁড়াতে পারিনি,তবে দূর হতে দারুনভাবে পাশে আছি।প্রায় প্রতি মুহূর্ত আপনার ও আপনার দুই শিশু সন্তানের কথা মনে করে চমকে উঠেছি,নিরবে কেঁদেছি।আমার এই কষ্ট আপনার সম কখনও নয়,তবুও বলব এটা আমার কাছেও পাহাড়সম।আপনার মতো আমার ও দুটি শিশু সন্তান আছে।আর কি বলব?শুধু একটাই চাওয়া-আপনি ভালো থাকুন,আমরাও ভালো থাকবো।আপনার প্রাণোচ্ছ্বলতা দেখে আমরা অভ্যস্ত।আপনাকে ভালোবাসি খুব ইউসুফ ভাই।

উল্লেখ্য, দুদক পরিচালক ইউসুফ শোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় একটি মুখ। ফেসবুকে তার ফলোয়ার সংখ্যা অনেক। তিনি সমসামরিক ঘটে যাওয়া অনেক বিষয় নিয়ে নিজের সুন্দর লেখনি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন। তার লেখা মানুষ পড়তেও বেশ ভালোবাসে। শাহজালাল বিমানবন্দরের অনিয়ম রোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আলোচনা আসেন ইউসুফ। পরে তাঁকে দুদক পরিচালক করা হয়।