বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে টক অব দ্যা টাউন হচ্ছে আওয়ামীলীগের সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল। তাদের দুজনের ফোনালাপ নিয়ে ধোয়াসা কাটছেই না। সম্প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে বেশ ফলাও করে ছাপা হয় ওবায়দুল কাদেরকে খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়টি নিয়ে ফোন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুল। আর এই ফোনালাপের বিষয়টা পরিষ্কার করছেন না কেউই। এ দিকে আবার প্রকাশ হয়েছে নতুন কথা। কাদেরকে নাকি কোন ফোন করেননি ফখরুল।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেননি বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করার বিষয়টি অস্বীকার করে মির্জা ফখরুল বলেন, ’ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বভাবসুলভ অসত্য বলেছেন। আমি যে তাকে ফোন করেছি তা কে শুনেছে?’

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ’এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চাই, কখন তাকে ফোন করা হয়েছে? কে শুনেছে তার কথা?’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ’সরকারের এখন আর এ বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।’

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ’এই মুহূর্তে তার শরীরের যা অবস্থা, ট্রিটমেন্টের জন্য বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন। এজন্য তার পরিবার থেকেই আবেদন জানানো হয়েছে।’


মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ’আমাদের কথা পরিষ্কার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে আমরা আজকে নয়, গত দুই বছর ধরেই কোর্টে যাচ্ছি, কথা বলছি, রাস্তায় নামছি, চিৎকার করছি। সারা দেশবাসী এই মুহূর্তে ম্যাডামের মুক্তির দাবি করছে। একই সঙ্গে আজকে তার (খালেদা জিয়া) পরিবারও করছে। কয়েকদিন আগেই তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য লিখিতভাবে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে। আর বাকি প্রশ্নগুলো সব অবান্তর থাকে। এগুলো আর প্রশ্ন থাকে না।’


শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ’বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোন করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে গতকালও কথা বলে জানতে পেরেছি, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও আবেদন আসেনি। খালেদা জিয়ার পরিবারের লোকজন ও দলের লোকেরা বিচ্ছিন্নভাবে তার মুক্তির বিষয়ে কথা বলছেন।’


প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের ২ বছর পূর্ন হলো। দুর্নিতীর মামলায় আটক হয়ে এই ২ বছর কারাগারে বন্দি আছেন বাংলাদেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানজে ট্রাষ্টের ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় সাজা প্রাপ্ত হয়ে তিনি রয়েছেন কারাগারে। তার মুক্তির জন্য নানা ধরনের চেষ্টা চালানো হলেও কোন রুপ আশার আলো দেখেননি তিনি। এ দিকে পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য বার বার বলা হলেও কোন দেখা মিলছে না মুক্তির।