ঢাকা সিটির নির্বাচনের পর এবার নির্বাচনের ডামাডোল বাজলো চট্টগ্রামে। ইতোমধ্যেই মনোনীত করার পর্ব সেরে ফেলেছে দলগুলো। তবে ঢাকা সিটির মত চট্টগ্রামেও অবাক করার মত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান মেয়র নাছিরকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে আওয়ামীলীগ থেকে। তার জায়গায় দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে। তবে এটি নিয়ে সব থেকে অবাক করার বিষয় হলো তার এই মনোনয়ন প্রাপ্তিতে আওয়ামীলীগের থেকে খুশি হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মিরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে কেউ মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব খাটাতেন। তাদের বিপুলসংখ্যক অনুসারী ও নেতাকর্মী থাকায় তারা নিজ নিজ এলাকায় দাপট দেখাতেন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের বাইরে যেত না। এসব দিক থেকে রেজাউল করিমই ভালো।

সম্পর্কিত খবর
ডা. শাহাদাতের হাতে উঠছে ধানের শীষ
কবর খুঁড়তে গিয়ে মারা গেলেন রশিদ!
শাহ আমানতে নামতে পারেনি ৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট
বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৬৭ সালে কলেজ ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সদস্য পদে ফরম পূরণের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯-১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৭০-১৯৭১ সালে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্রাবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১নং সেক্টরের বি এল এফ এর মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এ মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭৩-১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রেজাউল করিম চৌধুরী। পড়াশোনার জন্যে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু ৭৫ এর পট পরিবর্তনের কারণে সামরিক দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধ লড়াইয়ে নেমে ফাইনাল পরিক্ষা দিতে পারেননি তিনি। পরে ১৯৮০ সালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের কার্য্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৭-২০০৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৬-২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পরিচিতি রয়েছে রেজাউল করিম চৌধুরীর। বর্তমানে তিনি নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই রেজাউল করিম চৌধুরীকে দলের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি ছিল দলের মধ্যেই। এর বাইরে অন্যান্য প্রার্থীদের নিজস্ব রাজনীতি রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে, যা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে রয়েছে গ্রুপিং। এই একটি জায়গায় ব্যতিক্রম রেজাউল করিম চৌধুরী।

মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন জমিদার বংশ বহরদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী ছিলেন একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও দাদা ছালেহ আহমদ ছিলেন ইংরেজ শাসিত ভারত এবং পাকিস্তান আমলে চট্টগ্রামের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ও চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত বিলুপ্ত কমরেড ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি পাকিস্তান আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তার বড় ভাই অধ্যাপক সুলতানুল আলম চৌধুরী ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তার পূর্ব পুরুষেরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ২৩টি মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। পারিবারিক জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক রেজাউল করিম। তার বড় মেয়ে তানজিনা শারমিন নিপুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।


প্রসঙ্গত, ৫ টি কারনে এবারের চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন নিয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন মেয়র নাছির। এর মধ্যে অন্যতম বড় একটি কারন হচ্ছে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে না পারা। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগে বিভক্তির অন্যতম কারন হিসেবেও তাকে গণ্য করা হয়েছে। যার ফলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও তার উপরে ছিলেন বেশ ক্ষুব্ধ। মূলত এই সকল কারনেই তাকে দেয়া হয়নি মনোনয়ন।