অবশেষে বাংলাদেশেও আসতে চলছে ভ্যকসিন। বাংলাদেশের করোনার পরিস্থিতি এখন বেশ সঙ্গিন। প্রতিনিয়তিই দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। যার ফলে দেশে এখন করোনার ভ্যাকসিন প্রয়োজন সব থেকে বেশি। এ দিকে জানা গেছে, বেক্সিমকো ফার্মার মাধ্যমে ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সাথে আগামী ছয় মাসে তিন কোটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আমদানিতে চুক্তি করেছে সরকার। রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে রোববার (১৩ ডিসেম্বর) ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের কাছ থেকে আগামী ছয় মাসে (প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে) মোট তিন কোটি ভ্যাকসিন আমদানি করবে।

চুক্তিতে সরকারের পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম ও বেক্সিমকো ফার্মার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন স্বাক্ষর করেন।

তাদের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি রবিবার ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষ চুক্তিপত্রটিতে স্বাক্ষর করে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই পুনরায় দেশে পাঠিয়ে দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে সরকার অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিন নিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন দেশের ট্রায়ালে এই ভ্যাকসিন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে হয়েছে এবং এই ভ্যাকসিন আমাদের দেশের আবহাওয়া উপযোগী। প্রথম পর্যায়ে তিন কোটি ভ্যাকসিন আমদানি করা হচ্ছে।

ধাপে ধাপে এই ভ্যাকসিন আগামী ছয় মাস দেশে আনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিনের পাশাপাশি আরও কিছু কোম্পানির সাথেও সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি অ্যাস্ট্রেজেনেকা ভ্যাকসিন দেশে চলে আসবে আশা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এর মধ্যে অন্য ভ্যাকসিনগুলোও আমদানি করার কাজি এগিয়ে যাবে।

দ্রুত ভ্যাকসিন ক্রয়ে অনুমোদন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্টকাজে যুক্ত কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মা ও ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। ওই সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে আজ চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেলা ১২টায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় গাইডলাইন সমূহের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক অবহিতকরণ সভায় যোগ দেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত জীবনের ঝুকি নিয়ে কোভিড মোকাবিলা করেছে। স্বাস্থ্যখাত কোভিডকে ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেই দেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে।


চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই করোনা ভাইরাস। এর পর থেকে এটি ছড়ায় বিশ্বের ২১৫ টিরও বেশি দেশে। শেষ জরিপ থেকে জানা গেছে বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ কোটি। তবে স্বস্তির খবর এই যে বিশ্বে করোনায় আক্রন্তদের সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বেশ ভালো হচ্ছে দিন দিন।