মানুষই পৃথিবীর সেই বিরলতম প্রাণীদের একজন যারা বংশবৃদ্ধির কথা না ভেবে, কেবলমাত্র আনন্দের জন্য যৌনতায় লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু নানা কারণে রাষ্ট্র ও সমাজ চায় মানুষের যৌনতার স্বাভাবিক আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণের বেড়ি পরাতে। সেই উদ্দেশ্যেই গড়ে ওঠে যৌনতা সম্পর্কিত নানা ধরনের আইন। সেইসব আইনের অনেকগুলিই পিলে চমকে ওঠার মতো উদ্ভট। এখানে রইল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রচলিত তেমনই ১০টি যৌনতা সম্পর্কিত আইন—
১. কম্বোডিয়ার কালি-তে একজন মহিলা কেবলমাত্র তাঁর স্বামীর সঙ্গেই সহবাসে লিপ্ত হতে পারেন। এবং স্বামী-স্ত্রীর প্রথম মিলনের সময়ে তাঁদের শয্যাকক্ষে উপস্থিত থাকেন মেয়েটির মা। তিনি গোটা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এটাই সেই দেশের আইন।
২. ইংল্যান্ডের লিভারপুলে আঞ্চলিক মাছের দোকানে মহিলা মাছ বিক্রেতারা ইচ্ছে হলে সম্পূর্ণ টপলেস হয়ে মাছ বিক্রি করতে পারেন। ব্যাপারটি সেখানে বেআইনি বলে মনে করা হয় না। 
৩. বলিভিয়ার সান্তা ক্রুজ এলাকায় একজন পুরুষ একজন মহিলা ও সেই মহিলার কন্যার সঙ্গে একই সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারেন। আইন তাঁদের পথ রোধ করবে না। 
৪. গু‌য়াম নামের দেশে শারীরিকভাবে কুমারী মেয়েদের বিয়ে করা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে এই দেশে কোনও কোনও পুরুষের পেশাই হল কুমারী মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে তাঁদের কৌমার্য হরণ করা। 
৫. ইন্দোনেশিয়ায় হস্তমৈথুন আইনত নিষিদ্ধ। হস্তমৈথুনের অভিযোগে জেল পর্যন্ত হতে পারে। 
৬. বাহরিনে কোনও পুরুষ ডাক্তার সরাসরি কোনও মহিলা রোগীর যৌনাঙ্গের দিকে তাঁকাতে পারেন না। কারণ আইন তাঁকে সেই অনুমতি দেয় না। তাহলে উপায়? সে দেশের নিয়ম হল, রোগিনীর যোনির সামনে আয়না রেখে চিকিৎসা করতে হবে তাঁকে। 
৭. লেবাননে কোনও পুরু‌ষ কোনও পশুর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারেন। আইনত কোনও বাধা নেই। কিন্তু সেই পশুটিকে বাধ্যতামূলকভাবে মহিলা হতে হবে। কোনও পুরুষ পশুর সঙ্গে সঙ্গম করার অভিযোগে সে দেশে কোনও পুরুষের ফাঁসি পর্যন্ত হতে পারে। 
৮. হংকং-এ কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি কোনও বিবাহোত্তর সম্পর্কে লিপ্ত হন তাহলে তাঁর স্ত্রী সেই অভিযোগে তাঁকে হত্যা পর্যন্ত করতে পারেন। আইন সেই স্ত্রীকে অপরাধী বলে মনে করবে না। তবে শর্ত একটাই— কোনও অস্ত্রশস্ত্রের সাহায্যে নয়, একেবারে খালি হাতে হত্যাকাণ্ডটি সারতে হবে তাঁকে। 
৯. মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই প্রচলিত রয়েছে একটি আইন— কোনও ভেঁড়ার সঙ্গে সঙ্গমের পর সেই ভেঁড়ার মাংস খাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। 
১০. উরুগুয়েতে কোনও বিবাহিত মহিলা যদি কোনও পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, এবং সেই মহিলার স্বামী যদি সেই মহিলাকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে সঙ্গমরত অবস্থায় হাতে-নাতে ধরে ফেলতে পারেন তাহলে সেই মহিলা ও তাঁর প্রেমিককে হত্যা করার আইনী অধিকার সেই স্বামীর রয়েছে। 

News Page Below Ad