নুন আনতে পান্তা ফুরায় প্রবাদটি বাংলার অন্যতম বাস্তবমুখি প্রবাদ। বিশেষ করে দেশের সাধারন গরীব মানুষের কাছে এই প্রবাদটি একটি বাস্তব সত্য। ঠিক তেমনই একজন গরীব মানুষের নাম রমজান আলী। তবে তার নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে এখন হাসির ঝিলিক। মাত্র ৩০ টাকার লটারির টিকিটও যে এভাবে ভাগ্য বদলে দিতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবেননি রমজান আলি।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহের মানিকচক থানার নূরপুর গ্রামের রমজান আলি অনেক বছর আগে আগ্রাসী গঙ্গার ভাঙনে ভিটেমাটি হারান। সংসার নিয়ে বাঁধের ধারে একটি ঝুপড়িতে তার বাস। স্থানীয় সড়কে ম্যাজিকভ্যান চালিয়ে পরিবারের খরচ সামলান রমজান।

রাতারাতি বদলে গেল সবকিছু। ম্যাজিকভ্যানের চালক থেকে এখন কোটিপতি রমজান আলি। লটারিতে প্রথম পুরস্কার জেতার পর রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এই দিনমজুর।

এলাকার দুর্বৃত্তরা তার লটারির টিকিট কেড়ে নিতে পারে, এমন আশঙ্কাও ছিল। খবর পেয় বৃহস্পতিবার রাতেই তার বাড়িতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করেন মানিকচক থানার ওসি কুণালকান্তি দাস। এ ঘটনায় নূরপুর এলাকায় এখন শোরগোল পড়ে গেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রমজান আলি ম্যাজিকভ্যানের চালক। তিনি পরিবার নিয়ে নূরপুর গ্রামের রাস্তার ধারে সরকারি খাসজমিতে এক চিলতে চাটাই, টালির ঘরে বসবাস করেন। পরিবারে স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

রমজান আলি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে গাড়ি ভাড়ার সুবাদে দেড়শো টাকা বকশিস পেয়েছিলাম। সেখান থেকে ৩০ টাকা দিয়ে একটি লটারি টিকিট কেটেছিলাম। বিকেলে সেই লটারি খেলা ছিল। তাতে আমার ভাগ্য বদলে দেবে ভাবতেই পারিনি।


এ দিকে শুরুতে তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারেননি পুরো বিষয়টি। সব কিছুই কেমন যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছিল তার কাছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, নূরপুর স্ট্যান্ডে টিকিট কেটে ছিলাম। সেখানকার দোকানদারই শোরগোল শুরু করে দেয় আমি এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার পেয়েছি।