সাকিব আল হাসান,বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যাকে এক নামে চেনে।যাকে বলা হয়, "বাংলাদেশের প্রান,সাকিব আল হাসান"।বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার হিসেবে যায়গা করে নিয়েছিলো বিশ্ব ক্রিকেট দরবারে।বিশ্ব বাবা দিবসে সেই সাকিবকে নিয়ে নানা আলোচনা আর পিছনের অনেক কথা নিয়ে মেতে উঠলেন তার বাবা খন্দকার মসরুর রেজা।জানালেন অজানা অনেক কথা।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে তা তুলে ধরা হলো:-

আমি তখন নিয়মিত ফুটবল খেলতাম। আমার ভাগনে মেহেদী হাসান তখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়। তাই ভাবলাম সাকিবের যেহেতু খেলাধুলায় আগ্রহ, তাহলে তাকে ফুটবলার হিসেবে তৈরি করা যায় কি না। মাঝেমধ্যে স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতাম। ফুটবল খেলতে উৎসাহ দিতাম। কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হতো না, ওর ধ্যানজ্ঞান ক্রিকেট ঘিরেই।

একবার না জানিয়েই পাড়ার ছেলেদের সঙ্গে সে কোথায় যেন খেলতে গেল। ওই ম্যাচে জিতে ফিরেছিল। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে যাওয়ায় ভীষণ রেগে ছিলাম। বাড়িতে ফেরার পর আমি ওর ক্রিকেট ব্যাটটা দা দিয়ে কেটে ফেলেছিলাম। তখন ওর মায়ের কাছে দুঃখ করে সাকিব নাকি বলেছিল, আমার ব্যাটের বদলে আব্বু যদি আমাকেও কেটে ফেলত তাহলেও এত কষ্ট পেতাম না। এই কথা শুনে আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ঘটনাটা মনে পড়লে সেই কষ্টটা নতুন করে জাগে, মনে হয় ওই সময় কেন আমি এটা করেছি!

সাকিব যখন বিকেএসপির (বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তখন তাকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলাম। সেই চ্যালেঞ্জটা ছিল তাকে আশ্বস্ত করার, তুমি যদি চান্স পাও তাহলে আমি তোমাকে ভর্তি করব। খুলনার বিভাগীয় বাছাইয়ের ভেন্যু ছিল নড়াইল। তখন সাকিবের কোচ ছিলেন আশরাফুল ইসলাম। সে সময় মাশরাফিও তাকে প্র্যাকটিস করিয়েছিল। একসঙ্গে ফুটবল খেলার সুবাদে মাশরাফির বাবা ছিল আমার বন্ধু। তাই একদিন নড়াইলে গিয়ে মাশরাফি আর তার বাবার কাছে জিজ্ঞেস করলাম সাকিবের কী অবস্থা? তখন মাশরাফি বলেছিল, এখান থেকে যদি একটা ছেলেও ভর্তির সুযোগ পায় তাহলে আপনার ছেলেই পাবে। এরপর ও ঢাকায় গিয়েও বাছাই পরীক্ষায় প্রথম হলো। সেদিন গর্বে বুকটা ভরে উঠেছিল।

এখন সাকিব আল হাসানের বাবা হিসেবে যতটা না গর্ব হয়, তার চেয়ে বেশি গর্ব হয় এই ভেবে, আমার ছেলে এখন সারা দেশের মানুষের। সত্যি বলতে, বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেট দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ই তো আমার সন্তান। ওরা সবাই যখন ভালো করে তখন আমি গর্বিত হই।

একটা বিস্ময়কর কথা বলি। আমি কখনো মাঠে বসে সাকিবের খেলা দেখিনি! এমনকি তার মা শিরিন আক্তারও কখনো দেখেনি। এত দিন ক্রিকেট খেলছে অথচ আমরা কেন কখনোই গ্যালারিতে বসে ওর খেলা দেখিনি? কারণ একটাই, হৃৎস্পন্দন! টিভিতে সরাসরি খেলা দেখতে গেলেও আমার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। মনে হয়, কখন যেন আউট হয়ে যায় ছেলেটা। তাই সব খেলারই হাইলাইটস দেখি। খেলা যখন চলে ফোনে মানুষের কাছে খেলার খবর নিই।

তবে এবার আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই ছেলের খেলা দেখব সরাসরি। সব ঠিকঠাক থাকলে এ সপ্তাহেই বিশ্বকাপ দেখতে বিলেতে যাব। আশা করছি, বাংলাদেশ দলের খেলা এবার মাঠে বসেই দেখব।