আল-আমিন হোসেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সময়ের নিয়মিত পেসার ছিলেন। তবে বাজে পারসফরম্যান্সের কারনে বর্তামানে দলে জায়গা পাননা তিনি। তবে এবার নতুন করে তিনি এসেছেন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। হয়েছেন ব্যাপক সমালোচিত। সম্প্রতি বিসিএলের একটি ম্যাচ খেলছিলেন আল-আমিন। তার বিপরীত দলে ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আর তাকে আউট করার পরে তার সঙ্গে বেশ অশোভন আচরণ করেন তিনি। আর এ নিয়েই তার নামে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। আর তাই পূর্বাঞ্চলকে (ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন) হারিয়ে বিসিএলের টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চল (বিসিবি সাউথ জোন)। দলের এমন ভালো দিনে নিজের খারাপ খবর শুনতে হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের পেসার আল আমিন হোসেনকে।
চট্টগ্রামে টুর্নামেন্টের ফাইনালে মঙ্গলবার ১০৫ রানের বড় জয় পেয়েছে দক্ষিনাঞ্চল। এই নিয়ে টুর্নামেন্টের অষ্টম আসরে পঞ্চম শিরোপা জিতেছে দলটি। বিসিএলের টানা তৃতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চল। দল শিরোপা জিতলেও ফাইনাল ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়াতে পারেননি আলি-আমিন।

প্রথম ইনিংসে উইকেট শূন্য থাকা আল-আমিন হোসেন দ্বিতীয় ইনিংসে পান একটি মাত্র উইকেট। এই উইকেট শিকার করেই প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

আর তাতেই আল-আমিনকে প্রথম পর্যায়ের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আল-আমিন হোসেন আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন এবং সেজন্য তাকে জরিমানা করা হয়েছে।

কারণ হিসাবে বলা হয়, ব্যাটসম্যানকে আউট করার পর দক্ষিণাঞ্চলের পেসার আল-আমিন হোসেনের ভাষা এবং শারীরিক আচরণ অশালীন ছিল।

আইসিসির কোড অফ কন্ডাক্টের অনুচ্ছেদ নম্বর ২.৫ এর ধারা ভঙ্গ করেছেন আল-আমিন হোসেন। যেখানে বলা আছে, কোন ম্যাচ চলাকালীন সময়ে কাউকে আউট করার পর, তার প্রতি এমন কোন ভাষার প্রয়োগ করা যাবে না, কোনরকম অ্যাকশন করা যাবে না যা তাকে আগ্রাসী কিছু করতে বাধ্য করতে পারে। এই অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি- আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি- ম্যাচ ফি’র অর্ধেক জরিমানা।

প্রথম পর্যায়ের এই অপরাধের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার আল-আমিন হোসেনকে সর্বোচ্চ শাস্তিই দিয়েছে বিসিবি।


প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের টেষ্ট জার্সিতে প্রথম জাতীয় দলে অভিষিকক্ত হন আল-আমিন হোসেন। আল-আমিন ছিলেন বাংলাদেশের ৭০তম টেষ্ট ক্রিকেট খেলোয়াড়। এর পর থেকেই তিনি দলে খেলতে থাকেন নিয়মিত। একাধারে তিনি খেলেছেন ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ম্যাচও। হয়ে ওঠে দলের ভরসাবান একজন পেসার। তবে এখন দলে ঢুকতে পারছেন না তিনি। নেই আগের মত তার বলের সেই ধার।