বাংলাদেশের নানা ধরনের সব আলোচিত বিষয় গুলো এখন সব থেকে বেশি ভাইরাল হচ্ছে পাশের দেশ ভারতের কোলকাতায়। আর এ সব নিয়ে কোলকাতার জনগনেরাই সব থেকে বেশি মাতামাতি করে যাচ্ছেন। যেটাকে খুব বেশি ভালো চোখে দেখছে না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সংস্কৃতির মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। তার প্রশ্ন- কোনো ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো?
রোববার (৩০ মে) ফেসবুকে দেয়া খোকনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

’দামে কম, মানে ভালো কাকলি ফার্নিচার অনেক বেশি ব্যবসা করুক, আমি তাই চাই। দর্শক চাইলে হিরো আলম দেশের এক নম্বর নায়ক হোক, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আরমান আলিফের অপরাধী গান সবচেয়ে বেশি হিট হোক, তাতেও আমি খুশি। আমি চিন্তিত অন্য জায়গায়। বিশ্ব দরবারে আমাদের সংস্কৃতির মান নিয়ে।’

’এখন ভার্চুয়াল মিডিয়ার যুগ। মনে করেন, সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করেন বিদেশি এমন বিশেষ কেউ আমাদের দেশের চলমান সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে চাইলো, যার কি-না বাংলাদেশ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই। গুগল, ইউটিউবে কিংবা ফেসবুকে সার্চ দিলেন। আমি নিশ্চিত এই তিনটি সেক্টরে এই তিনজনই আসবেন। বিদেশিরাও আমাদের চলমান সংস্কৃতির মান সম্পর্কে কিঞ্চিৎ ধারণা পেয়ে যাবেন। সেরা নায়ক হিরো আলম, সেরা গান ’মাইয়া তুই অপরাধী’ আর বিজ্ঞাপন ’কাকলি ফার্নিচার’। কারণ তাদের ভিউ বেশি।’

’তাদের নিয়ে মাতামাতি বেশি। আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। হিরো আলমকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হয়েছে কোনো জায়গায়। উত্তর হলো- কলকাতা প্রথমে, এরপর সারা ভারতে, এরপরে বাংলাদেশে। অপরাধী গান সবচেয়ে বেশি কভার কিংবা প্যারোডি হয়েছে কোথায়? উত্তর ওই একই।’



’কাকলি ফার্নিচার সবচেয়ে বেশি ভাইরাল ও প্যারোডি হয়েছে কোথায়? উত্তর প্রথমটাই। প্রথমে কলকাতায়, পরে সারা ভারত এবং এরপর বাংলাদেশে। আমাদের শাকিব খান, জয়া আহ্সানরা খোদ কলকাতাতেই অনেক ভালো কাজ করেন। কিন্তু ভাইরাল হন না। জেমস-এর গান বোম্বে সুপারহিট হবার পর সেখান থেকে অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ হোন।’

’মজা করে হোক কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হোক কলকাতা কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের সংস্কৃতির একটা মান দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। অথচ কলকাতা এক সময় আমাদের দেশের নাটক ও সিনেমার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো। এখন পুরো বিশ্বের বিশাল একটা জায়গা ভারত দখল করে নিয়েছে, তাদের সিনেমা ও গান দিয়ে।’

’সুতরাং যারা এই গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে আরো ভাইরাল করেন, ফিচার লিখেন, নিউজ করেন তাদের আরো ভাবা উচিত। কোন ফাঁদে পা দিচ্ছেন নাতো?’

স্টাটাসের নিচে তিনি একটি নোট লেখেন। নোটে খোকন লিখেছেন, ’আমাকে কেউ ভারতবিরোধী ভাববেন না। সংস্কৃতির প্রতিযোগিতায় তারা এগোনোর চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক। তা যেকোনো প্রক্রিয়া করেই হোক। সেই সতর্ক করাই এই লেখার মূল উদ্দেশ্য।


দীর্ঘদিন ধরে আশরাফুল আলম খোকন কাজ করে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ প্রেস সচিব হিসেবে। তবে গেল বেশ কিছু দিন আগে তিনি অব্যাহতি দিয়েছেন তার দায়িত্ব। এরপর পড়াশুনার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন সুদুর যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই থেকে তিনি দেশের নানা ধরনের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকেন।