প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত খোলা হয়নি দেশের কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর এই কারনে দেশের স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যহত হয়ে পড়েছে অনেকাংশে। আর এ নিয়ে দেশের সাধারন থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মানুষেরা অনেক বেশি চিন্তিত। সম্প্রতি এ নিয়ে আবারো কথা বলেছেন বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব জনাব আসিফ নজরুল। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তার সেই লেখনি তুলে ধরা হলো হুবহু:-


শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখতেই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

রোববার (৩০ মে) দুপুরে ’হল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দাও আন্দোলন’ আয়োজিত ঢাবির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, গার্মেন্টস খোলা আছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা আছে, গণপরিবহন চালু আছে, শপিংমল খোলা আছে, সবই খোলা আছে। উৎসব হচ্ছে, আয়োজন হচ্ছে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ কেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ কেন। শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু এ সরকারের কাছে শাসন হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, শাসনের জন্য সরকার সবই করতে পারে। কিন্তু শিক্ষার জন্য করবে না। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখা যাবে। তারা কোনো প্রতিবাদ করতে পারবে না। এটা ছাড়া আর কোনো কারণ দেখি না। আমার মনে হয়, সম্ভব হলে তারা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বন্ধ রাখবে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল খুলে দেয়ার দাবি জানান। এ সময় ঢাবির ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আরিফ বিল্লাহ বলেন, পৃথিবীতে আর একটি দেশও পাবেন না যেখানে ছাত্ররা ক্লাস করতে চায়। আমাদের দেশের ছাত্ররা এর জন্য সংগ্রাম করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত তাবাসসুম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি মার্কেট, শপিংমল, দোকানপাট, গণপরিবহন চলতে পারে তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অবশ্যই চলতে পারবে। তাদের চেয়ে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সচেতন। সবকিছু খোলা রেখে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো মানেই হয় না, এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমরা অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে ফিরতে চাই। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, সেশনজট না বাড়িয়ে অবিলম্বে ক্লাসে ফেরার ব্যবস্থা করুন।

এ দিকে দেশের শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী মাসের ১৩ তারিখে হয়তো খুলে দেয়া হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু করোনার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নেয়া হবে সব উদ্যোগ। তার আগে হটকারিতা করে খোলা হবে না কোন ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমনটাও জানানো হয়েছে সরকার থেকে।