বাংলাদেশে বর্তমানে ইউটিউব একটি জনপ্রিয় প্লাটফর্ম হয়ে দাড়িয়েছে যেখানে মানুষ তার নিজের ট্যালেন্ট দেখিয়ে থাকে। আর এই ইউটিউব থেকেই মানুষ এখন শিখে থাকে অনেক কিছু। তবে বাংলাদেশের আইমান সাদিক এই ইউটিউব টাকেও গড়ে তুলেছিলেন একট পড়া শুনার ক্ষেত্র হিসেবে। সেখানে তিনি শিক্ষা দিতেন পড়া শুনার। কিন্তু সেই টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক রবিবার ফেসবুকে জানান, তাকে ’ইসলাম-বিরোধী’ তকমা দিয়ে হ’/ত্যা’/র হু’/ম’/কি দেয়া হয়েছে৷ তার দাবি, যে বিষয় নিয়ে হু’/ম’/কি দেয়া হচ্ছে সেই পোস্ট বা বক্তব্য তিনি দেননি৷ তার স্কুলের এক সাবেক কর্মী, যিনি এখন বিদেশে থাকেন, তার দেয়া বক্তব্য ধরেই তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি তার৷
তার ব্যবসা নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন আয়মান সাদিক৷ যারা হু’/ম’/ কি দিচ্ছে তাদের দাবি, আয়মানকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ইসলাম-বিরোধী নন৷

তবে আয়মান প্রশ্ন করেন,’’আমার ধর্মের হিসাব তাদের কাছে দিতে হবে কেন? আমার ব্যবসার হিসাব চাওয়ারই বা তারা কে?’’

এমনকি ওই গোষ্ঠীটি টেন মিনিট স্কুলের কিছু ইউটিউব ভিডিও’রও অপব্যাখ্যা দিয়ে তাকে নব্য মিশনারী, ও কাফিরদের এজেন্ট বলে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে আয়মান জানান৷ তিনি বলেন,’’ টেন মিনিটস স্কুল কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়৷ কিন্তু আমি মুসলিম৷ তবে আমার মুসলমানিত্বের হিসাব আমি তাদের কারো কাছে দিতে বাধ্য নই৷’’

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এরই মধ্যে আয়মান সাদিককে হুমকির বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে৷ তারা তাকে হুমকি দেয়া কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ এবং ভিডিও চিহ্নিত করেছে৷ সিটিটিসি’র উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ’’আয়মান সাদিক আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি৷ আমরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তৎপরতা দেখে যোগাযোগ করেছি৷ তাকে কেউ যদি সরাসরি কোনো ধরনের ক্ষতির চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের জনাতে বলেছি৷ বিষয়টির ওপর আমাদের নজরদারি আছে৷ কোনো জ’/ঙ্গি গোষ্ঠী এর সঙ্গে যুক্ত কিনা তা-ও আমরা দেখছি৷’’ আয়মান থানায় জিডি করে নিরাপত্তা চাইলে পুলিশ সেটা বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি৷

সিটিটিসি দেখতে পেয়েছে শুধু আয়মান নয়, তার টেন মিনিট স্কুলের বিরুদ্ধেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে৷ নানা ধরনের ভিডিও ও ফেসবুক পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে৷ কয়েকটি গ্রুপ থেকে এ কাজ করা হচ্ছে এবং তা হাজার হাজার শেয়ার হচ্ছে৷

তবে আয়মানের ব্যাপারে এই অপপ্রচার ও হমকির বিরুদ্ধে অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অবস্থান নিয়েছেন৷ তারা এই ধরনের অপতৎপরতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷

তাদের একজন লেখক ও সাংবাদিক শেরিফ আল সায়ার বলেন,’’ব্যক্তি আয়মানের অনেক ধরনের সমালোচনা থাকতে পারে৷ তার কনটেন্ট নিয়েও সমালোচনা থাকতে পারে৷ কিন্তু কেউ যদি তার ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সে মুসলান কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হুমকি দেয়, সেটা তো গ্রহণ করা যায় না৷ তাদের তো এইসব প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার নেই৷ তার ব্যবসা নিয়ে কিছু তাকলে সেটা দেখার জন্য সরকারের লোক আছে৷ ওদের তো কেউ পুলিশিং-এর কাজ দেয়নি৷’’

’’কেউ মুসলাম কি অমুসলমান, কেউ ধর্মের পক্ষে, না বিপক্ষে এই ধরনের প্রশ্ন তুলে কাউকে হু’/ম’/কি দেয়া জ’/ঙ্গি বা ধর্মান্ধদের কাজ,’’ বললেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান৷ তার কথা, ’’ভিন্ন মতের কারণে বাংলাদেশে অনেককে জীবন দিতে হয়েছে৷ তাই সে পরিস্থিতি আবার যাতে ফিরে না আসে সেজন্য আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে৷’’

হু’/ম’/কি’/ র বিষয় আয়মান সাদিকের কাছ থেকে ফেসবুক বার্তার বাইরে আর কোনো বক্তব্য জানা যায়নি৷ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি৷ এসএমএস-এরও জবাব দেননি৷ ফেসবুকে তিনি বলেছেন, হু’/ম’/ কি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন তার মা-বাবা৷ তিনি টেন মিনিটস স্কুল সম্পর্কে বলেছেন, এই স্কুলে ১৭ হাজার ৪৪০টি ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে৷ প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষা, সফটওয়্যার ও প্রফেশনাল স্কিলবিষয়ক এই ভিডিওগুলো বিনা মূল্যে দেখা যায়৷ স্কুলটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছে৷


এ দিকে এই বিষয়টি নিয়ে এখন দেশের সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে চলছে নানা ধরনের আলোচনার সমালোচনা। বিশেষ করে আইমান সাদিকের যারা সমর্থক আছে তারা এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত। এ ছাড়াও তার পরিবার রয়েছে আরো বেশি শঙ্কায় এবং চিন্তায়। আর এখন বিষয়টি এমন গুরুতর হয়ে দাড়িয়েছে যে এ নিয়ে এখন বেশ সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছেন তরুণদের এই আইডল আইমান সাদিক।