পরিমনির ঘটনায় উত্তাল পুরো দেশ।সবখানেই হচ্ছে নানা বিধ আলোচনা সমালোচনা। বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে গণমাধ্যম কিংবা শোবিজ তারকা সবাই এ নিয়ে এখন কথা বলছেন। এ দিকে এবার এই বিষয়টি নিয়ে কথা উঠেছে সংসদেও।সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ’কোথায় মামলা করবো? কার কাছে মামলা করবো? কার কাছে অভিযোগ করব? কেউ তো জিডি নিতে রাজি হচ্ছেন না, কথাটি বলছিলেন ত্ব-হার (আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান) স্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সঙ্গে আরও তিন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই। একই সময় একই ধরনের অভিযোগ করতে দেখেছি নায়িকা পরীমনিকে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি ভাগ্যবতী। কারণ তার মামলা নেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার পরিবারের।’

তিনি আরও বলেন, ’সেই সৌভাগ্য হয়নি বাংলাদেশের আরও ৬০৪টি পরিবারের। যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাদের ব্যাপারে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু বলছে, না লোকাল পুলিশ স্টেশন কিছু বলতে পারছে।’

মঙ্গলবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিলের ওপর আনিত সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

রুমিন ফারাহান বলেন, ’সরকার যখন বলছে তারা পরকীয়ার টানে চলে গেছে, ঋণের বোঝা আছে, পারিবারিক কলহের জেরে চলে গেছে। তখন ২০১৯ সালের এপ্রিলে ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এফআইডিএইচ বলছে, গুমের এই ঘটনাগুলো বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এগুলো যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে, তাদের সমন্বিত কৌশলের অংশ। এই ঘটনাগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালার পরিপন্থি। এফআইডিএইচ বলছে যেহেতু বেশিরভাগ ভুক্তভোগীকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টার্গেট করা হয়, তাই কাজগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। অর্থাৎ গুমকে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ বলছে।’

বিএনপির এই সদস্য বলেন, সরকারের দায়িত্ব অভিযোগগুলো তদন্ত করা। তদন্তের ভিত্তিতে তারা কোথায় হারিয়ে গিয়েছে সেটা বের করা। বারবার বলা হয় বাংলাদেশের বিরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে। বিরাজনীতিকরণ করা হচ্ছে এই অর্থে যে, যখন কোনো ব্যক্তিকে গুম করা হয়, তার পরিবার পায় না, তখন বলে আমার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তার মানে সরকারি দল না করলে সরকারি মতের সাথে না মিললেই সে হাওয়া হয়ে যেতে পারে, নাই হয়ে যেতে পারে, এটাই বিরাজনীতিকরণ।’

প্রসঙ্গত, রংপুর মাহফিল করে গত ৪ দিন রাতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন আদনান। এরপর থেকেই আর কোন ধরনের খোজ পাওয়া যায়নি তার। নানা জায়গায় তার খোজ করেও পাওয়া যায়নি তাকে এবং তার সাথে নিখোঁজ হওয়া সবাইকে।